বৃহস্পতিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

স্কোয়াশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে

স্কোয়াশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে

নওগাঁয় প্রথমবারের মত বাণিজ্যকভাবে চাষ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ। শীতকালীন এ সবজি পুষ্টিকর, সু-স্বাদু, সল্পমেয়াদি, উচ্চ ফলনশীল, লাভজনক। এখানে স্কোয়াশ চাষ করেছেন সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল লতিফ। তার একবিঘা জমিতে বিষমুক্ত স্কোয়াশের ভালো ফলন হয়েছে। সেই সঙ্গে বাজারে স্কোয়াশের দাম ভালো থাকায় স্কোয়াশ বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি। খরচ ও রোগবলাই কম হওয়ায় আশে পাশের গ্রামের অনেকে স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ তার একবিঘা জমিতে বিদেশি হাইব্রিডজাতের স্কোয়াশ সবজি চাষ করেছেন। জমিতে বীজ বপনের দুই মাসের মাথায় গাছগুলো বেড়ে ওঠেছে। স্কোয়াশ গাছে অসংখ্য হলুদ রঙ্গের ফুল ফুটে আছে। গাছের গোড়ায় প্রতিটি বোটায় ছোট বড় অনেক স্কোয়াশ ফল ধরেছে। কোনটির ওজন দুই থেকে আড়াই কেজির মতো। এ সবজিটি দেখতে অনেকটা শশার মত মনে হয়। কিন্তু আকারে অনেক বড় এবং বাইরের ত্বক শশার মত হলেও এই সবজিটির আকৃতি একটা বড় সরু মিষ্টি কুমড়ার মতো। প্রতিদিনই আব্দুল লতিফ এর স্কোয়াশ ক্ষেত দেখতে আসছেন পাশ^বর্তী গ্রামের অনেক কৃষক। ফলন ভালো হওয়ায় তারাই পরিকল্পনা করছেন আগামী দিনে স্কোয়াশ চাষ করার।

ফতেপুর গ্রামের কৃষক ইউনুছ আলী বলেন, আমরা মূলত দেশীয়জাতের বিভিন্ন সবজির চাষ করে থাকি। এই প্রথম আমাদের এলাকায় মঙ্গলপুর গ্রামের কৃষক লতিফ বিদেশীজাতের স্কোয়াশ চাষ করেছে। এ সবজির নাম আমি ব্যক্তিগতভাবে আগে কখনো শুনিনি বা দেখিনি। গত বছরের নভেম্বর মাসে এ সবজির চাষ শুরু করেন। বর্তমানে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজন হয়েছে প্রতিটি স্কোয়াশের। যতদূর জানি এখন পর্যন্ত রোগবালাই হয়নি। মনে হচ্ছে এটি লাভবান একটি সবজি। আমিও পরিকল্পনা করছি স্কোয়াশ চাষ করার।

আরও পড়ুনঃ  ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নোমান হোসেন নামের স্থানীয় আরেক কৃষক বলেন, খুব অল্প সময়ে গাছে স্কোয়াশ সবজি ধরেছে। কোনো রোগবালাই নাই। বাজারে এ সবজির দামও নাকি ভালো। স্কোয়াশ চাষে খরচও তুলনামূলক অনেক কম। লতিফ ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি স্কোয়াশ চাষের বিষয়ে। যদি কৃষি অফিস থেকে সহায়তা ও পরামর্শ পাই তবে আমরাও স্কোয়াশ চাষ করবো।

স্কোয়াশ চাষী আব্দুল লতিফ বলেন, শীতকালীন সময়ে আমি আলু, টমেটো, শিম, ফুলকপি আবাদ করতাম। গত বছরের অক্টোবর মাসে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় স্কোয়াশ চাষ শুরু করি। নভেম্বর মাসের শুরুতে একবিঘা জমিতে বীজ বপন করি। বর্তমানে ২ মাস ৯ দিনে প্রায় বিক্রির উপযুক্ত হয়ে গেছে। তবে চলতিমাসের শেষের দিকে ক্ষেত থেকে তুলে বিক্রি করা শুরু করবো। এখন প্রতিটি স্কোয়াশ দুই থেকে আড়াই কেজি ওজন হয়েছে।

লতিফ আরও বলেন,  একবিঘা জমিতে ১৩ সারি আছে। প্রতি সারিতে ৪২টি গাছ আছে। প্রতিটি গাছ থেকে মোট ১০টি করে স্কোয়াশ সবজি পাবো বলে আশা করছি। মোট ৫৫২টির মত স্কোয়াশ গাছ আছে আমার ক্ষেতে। প্রতিদিন বিকেলে গাছগুলোতে পানি দিতে হয়। স্কোয়াশ সবজি চাষে খরচ ও লাভের বিষয়ে লতিফ বলেন, বীজ, সার, সেচ ও ওষধু খরচ দিয়ে প্রতিবিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মত খরচ হয়। তবে আমাকে কৃষি অফিস থেকে কিছু সহায়তা করা হয়েছে। আর বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি স্কোয়াশ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। যদি শেষ পর্যন্ত ফলন ভালো হয়, রোগবালাই না থাকে তবে আমার ক্ষেত থেকে প্রায় ১০০ মণ স্কোয়াশ পাবো। সব খরচ বাদে এক লাখ টাকার মত লাভ হবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুনঃ  ফেনী জুড়ে চলছে ধান কাটার উৎসব

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি নওগাঁর উপপরিচালক কৃষিবিদ শামছুল ওয়াদুদ জানান, স্কোয়াশ মূলত একটি শীতকালীন ও বিদেশি জাতের সবজি। এটি মিষ্টি কুমড়ার মতো সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। মধ্যপ্রাচ্যের এ স্কোয়াশ চাষ অল্প খরচের ফসল। দ্রুত বর্ধণশীল একটি সবজি ও অল্প পরিশ্রমেই অধিক আয় করা সম্ভব। স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে নওগাঁর কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। নওগাঁ সদরের কৃষক আব্দুল লতিফকে  স্কোয়াশ চাষে কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা করা হয়েছে। স্কোয়াশ চাষে আমরা নানাভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। যদি কোন কৃষক স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হয়, তবে কৃষিবিভাগ থেকে পরামর্শ ও সহায়তা করা হবে।

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন