শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফুলকপি চাষে লাভের স্বপ্ন

ফুলকপি চাষে লাভের স্বপ্ন

কৃষি সমৃদ্ধময় বিখ্যাত আড়িয়াল বিলের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অংশে অসংখ্য ভিটায় শীতকালীন আগাম ফুলকপি চাষ করা হচ্ছে। বিস্তৃর্ণ আড়িয়াল বিলের সমতল বিভিন্ন ধানি জমি পাশে ছোট-বড় উঁচু ভিটায় নানা ধরণের শাক-সবজির পাশাপাশি ফুলকপি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন স্থানীয়রা। আগাম ফুলকপি চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন সবজি চাষিরা। তবে, চাষের ভরা মৌসুমে সিত্রাংয়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। জমিতে অধিক খরচে ফুলকপির চারা পুনরায় রোপণ করতে হয়েছে তাদের। এতে ফুলকপি চাষে কিছুটা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এরই মধ্যে কোনো কোনো ভিটায় ফুলকপি পরিপক্ক হতে শুরু করছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ভিটায় উৎপাদিত কৃষক ফুলকপি বাজারজাত শুরু করবেন। এছাড়াও শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া, কল্লিগাঁও, জুরাসার, মুসলিমপাড়া, তন্তর, সিংপাড়া, রুসদী এলাকায় স্থানীয়রা ফুলকপি চাষ করছেন। বর্তমান খুচরা বাজারে মাঝাড়ি আকারের একটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৫০ টাকা করে। জমিতে প্রতিটি ফুলকপি উৎপাদন খরচ ধরা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮ টাকা করে। ফুলকপি চাষ লাভজনক হওয়ায় এ চাষে স্থানীয়দের আগ্রহ বেড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আড়িয়াল বিলের বিভিন্ন ভিটায় ফুলকপির ব্যাপক চাষ করা হচ্ছে। ফুলকপির পরিচর্যা কাজে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আড়িয়াল বিল এলাকার শ্যামসিদ্ধির নুরজামান লিটন (৪০) বলেন, চলতি বছর প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ফুলকপির চাষ করছেন। সর্বমোট ২৫ হাজার টাকা খরচে  প্রায় ১৪ শতাংশ ভিটায় আড়াই হাজার ফুলকপির চারা রোপন করছেন। এর মধ্যে প্রায় গাছে ফুলকপি আসতে শুরু করেছে। তবে সিত্রাংয়ের প্রভাবে কিছু চারাগাছ মরে যায়। এক হাজার ফুলকপির চারা তিনি দুই হাজার টাকায় ক্রয় করেন। সেলামতির খলিল সিকদার (৪৮) ও বাগবাড়ির মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তারা প্রায় ৩শ’ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। এ চাষে সরকারি প্রণোদনা আসেনা। একটি ফুলকপির উৎপাদন পড়বে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। ফুলকপির বাজার পেলে এ চাষে লাখের স্বপ্ন দেখছেন তারা। কুকুটিয়া এলাকার সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর তিনি প্রায় ৩ হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করে সফল হয়েছেন। সব খরচ বাদে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় হয়েছে। এ বছর জমিতে জলাবদ্ধতায় এ চাষে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও সংগ্রহ হয়নি বোরো ধান

জানা যায়, এ অঞ্চলের সবজি চাষীরা নিজস্ব অর্থায়নে ফুলকপির পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটায় মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বেগুন, উচ্ছে, টমেটোসহ আগাম শাক-সবজির চাষাবাদ করছেন।

শহিদুল ইসলাম, আবুল হোসেনসহ শ্রীনগর বাজারের সবজি বিক্রেতারা জানায়,  বাজারে ফুলকপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একেকটি ফুলকপি (আকার অনুসারে) ৩৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দুদিনে ফুলকপির বাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কমতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শান্তনা রানী বলেন, শ্রীনগরে সবজি চাষে সরকারিভাবে কোন প্রণোদনা আসে না। তবে স্থানীয় কৃষকদের সবজি চাষে সার্বিকভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন