বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দরগুলোর অগ্রগতি স্তিমিত হয়ে পড়লেও, ব্যতিক্রম ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষেত্রে। নানা সংকটের মধ্যেও চলতি অর্থবছরে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা জাগিয়েছে এই বন্দর। অথচ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি বন্দরেরই বর্তমান অগ্রগতি নেতিবাচক।
জানা গেছে, গত বছরের শেষে (ডিসেম্বর) চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেব্রুয়ারিতে এসে অচলাবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় অচল হতে থাকে বন্দরগুলোর অপারেশন। তবে স্রোতের বিপরীতে চলেছে চট্টগ্রাম বন্দর। একদিনও বন্ধ ছিল না এ বন্দরের কার্যক্রম। প্রথম দিকে পণ্য উঠা-নামা কিছুটা কম থাকলেও জুলাই মাসে এসে রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এর অগ্রগতি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ জাফর আলম জানান, ইমপোর্ট হয়েছে এক্সপোর্ট বেড়েছে যার ফলে জুলাইতে আমাদের অগ্রগতি হয়েছে। এখনো যে কার্যক্রম তাতে বছর শেষে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হবে।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের সভাপতি এস এম আবু তৈয়বের জানান, লকডাউন চলাকালে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি সচল রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এ এম চৌধুরী সেলিম বলেন, অবশ্যই রফতানিমুখী পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে।
এর মাঝে গতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে লয়েড লিস্টে বিশ্বের একশো শীর্ষ বন্দরের মধ্যে ৬ ধাপ এগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর চলে আসে ৫৮তম স্থানে। গত দুই মাসে বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টিইউএস। এছাড়া, পণ্যবাহী জাহাজ এসেছে ৫৬৮টি।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস

