মূলত যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে দেশের শিল্প বলতে ছিল পাটকল। পরে রফতানিমুখী পোশাক খাত দিয়ে শুরু হয় উৎপাদনমুখী শিল্পের অগ্রযাত্রা। এ ধারাবাহিকতায় গত চার দশকে অনেকগুলো শিল্প বিকশিত হয়েছে, যেগুলোর চালিকাশক্তি ছিল অদক্ষ কর্মী।
আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষণ বলছে, এখনো অদক্ষ কর্মীরাই চালাচ্ছেন বাংলাদেশের শিল্প।
বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএসএআইডি। প্রতিবেদনে শিল্পভিত্তিক অদক্ষ কর্মীর হার প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিল্পভেদে অদক্ষ কর্মীর হার সর্বনিম্ন ৭৩ দশমিক ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে শিল্পের পত্তনে অদক্ষ শ্রমিকরাই মূল ভূমিকা রেখেছেন। তবে অদক্ষতা বা স্বল্পদক্ষতা দিয়ে আগামীতে শিল্পের বিকাশ কঠিন হবে। ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে।
পোশাক শিল্পের বাইরে সম্ভাবনাময় খাতগুলোর অন্যতম ওষুধ শিল্প। বাংলাদেশের ওষুধ খাতের বাজার এরই মধ্যে ২৪৪ কোটি ডলার। খাতটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষের, যাদের ৯৭ দশমিক ৪০ শতাংশই অদক্ষ।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের হাত ধরে বড় হচ্ছে মেডিকেল ইকুইপমেন্টের বাজার। বর্তমানে এ খাতের স্থানীয় বাজারের আকার ৩৫ কোটি ডলার, যেখানে কর্মরত আছেন ১০ হাজারের মতো কর্মী। এদেরও ৮৯ দশমিক ৭০ শতাংশ অদক্ষ।
দেশের অন্যতম শিল্প খাত কৃষি ব্যবসা। ৩৫৪ কোটি ডলার বা ২৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এ খাতের আকার। এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষের। ইউএসএআইডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশই অদক্ষ।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি চৌধুরি বলেন, বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। এ বিপ্লব অনেক বেশি গতিশীল। এতে গতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগে যে গতিতে পরিবর্তন হয়েছে এখনকার গতি তার কয়েক গুণ বেশি। এ কারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার একটা প্রস্তুতি থাকতে হবে।
বাংলাদেশের আরেক বড় শিল্প খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এ খাতের স্থানীয় বাজার। পাশাপাশি ৮৪টি দেশে বার্ষিক ১০০ কোটি ডলারের চামড়াজাত পণ্য রফতানিও হচ্ছে। খাতটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ছয় লাখ মানুষের, যাদের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশই অদক্ষ।
দেশের পর্যটন শিল্পে কর্মরত আছে ১১ লাখ মানুষ। এদেরও ৯২ দশমিক ৮০ শতাংশের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই। যদিও খাতটির আকার দাঁড়িয়েছে ৫৩০ কোটি ডলারে।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, কখনো দক্ষ কখনো অদক্ষ কর্মী দিয়েই আমরা এ পর্যায়ে এসেছি। স্বীকৃত দক্ষ শ্রমিক আমরা কখনো পাইনি। সুতরাং এগুলো কাটিয়ে প্রকৃত দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করে আমাদের সামনে এগোতে হবে।
আনন্দবাজার/ইউএসএস
