ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তর জাপানে আবারও ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

শুক্রবার সকালে উত্তর জাপানের প্রশান্ত উপকূলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার নতুন একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, হোনশু দ্বীপের ইওয়াতে অঞ্চলের কুজি শহর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল শনাক্ত করা হয়েছে।

এএফপি এর তথ্য অনুযায়ী, উপকূলজুড়ে সর্বোচ্চ এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর (জেএমএ)।

মাত্র কয়েক দিন আগেই একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প হয়েছিল। এতে ৫০ জন আহত হয়। জাপানি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, সোমবার রাতের বড় ভূমিকম্পের তুলনায় এবারের কম্পনের তীব্রতা কম ছিল। আগের ভূমিকম্পে তাক ভর্তি জিনিস পড়ে যায়, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক ভবনের জানালা ভেঙে যায়। সেই সময় প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ দেখা গিয়েছিল। সোমবারের বড় ভূমিকম্পের পর জেএমএ বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিল, এক সপ্তাহের মধ্যে একই মাত্রা বা তার চেয়েও শক্তিশালী আরেকটি ভূমিকম্প হতে পারে।

২০২৪ সালের আগস্টে জেএমএ জানায়, জাপানের প্রশান্ত মহাসাগর–সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলে নানকাই ট্রাফ বরাবর বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সাবডাকশন জোনে ফিলিপাইন সাগরের টেকটোনিক প্লেট ধীরে ধীরে জাপানের নিচে সরে যাচ্ছে। সরকার অনুমান করেছে, নানকাই ট্রাফ এলাকায় বড় ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামি হলে প্রায় তিন লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দুই ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। যদিও গত বছরের বিশেষ সতর্কবার্তা এক সপ্তাহ পর প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবুও এতে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত মজুত এবং ছুটির পরিকল্পনা বাতিলের ঘটনা বাড়ে।

এর আগে জাপানে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ২০১১ সালে। ৯ মাত্রার ভয়াবহ সেই ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন। এটি জাপানের ইতিহাসে অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি।

চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটে ও প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ারে’ অবস্থিত হওয়ায় জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন