ঢাকা | মঙ্গলবার
৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বে নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে: পাপন

জাতীয় দল ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের কারণে অচলাবস্থা বিরাজ করছে ক্রিকেটাঙ্গনে। গতকাল সোমবার বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিরত থাকার ঘোষণা করেছেন ক্রিকেটাররা। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন।

বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘বিশ্বে কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে ক্রিকেটাররা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ক্যাম্প ও খেলা বয়কট পরিকল্পিত। দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করার জন্যই এসব করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের রহস্য বের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

খেলোয়াড়দের ধর্মঘট নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে পাপন বলেছেন, সাকিব-তামিমদের আচরণে আমরা অসন্তুষ্টস হয়েছি। এটা মোটেও কাম্য নয়। আমরা এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারত।

তাদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে তাদের সব চাওয়া আমরা পূরণ করেছি। তাদের ছেলেমেয়েকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলা করেন, আর কী সুযোগ-সুবিধা চায় তারা।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের এই পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাদের বেশিরভাগই জানে না আসল পরিকল্পনা কি। দু’একজন ক্রিকেটার এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাকিরা না বুঝে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

বিসিবি বস বলেন, আমাদের না জানিয়ে হঠাৎ খেলা বন্ধ করে দেয়া একটা চক্রান্ত। জিম্বাবুয়ের মতো বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বে নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত আমরা তা জানি। কারা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে, বাইরেরগুলোকে আমরা চিনি, আমি কিছুদিন সময় চাচ্ছি, এগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, প্লেয়াররা যদি না যায়, আমার কিছু বলার নাই। আমরা যেকোনো সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত। যখনই কিছু করতে যাই, তখনই এমন কিছু করা, আমার মনে হয় এগুলো দাবি না। দাবি পেশ না করে খেলা বন্ধ করে, এটা হয় কিভাবে!

বিসিবি নিয়ে যা কিছু বলুক, আমাকে নিয়ে যা কিছু বলুক, কিন্তু খেলা বন্ধ! তারা এখনো দাবি পেশ করে নাই, কারণ তারা জানে আমরা মেনে নিব, তাই তারা যোগাযোগ পর্যন্ত করে নাই। এগুলা একটা ষড়যন্ত্রের অংশ।’

ক্রিকেটারদের দাবিগুলো নিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, প্লেয়াররা কি কি পায়! এতদিন ছিল না, কন সমস্যা ছিল না, এখন আছে, এখন এমন দাবি কেন? প্লেয়ার ফি আমরা অনেক বেশি দিচ্ছি। অন্তত ২০ থেকে ২২টা দেশের চেয়ে বেশি দিচ্ছি।

বাড়াতে হলে বলবে, এজন্য খেলা বন্ধ করে দেবে! ওরা যদি খেলতে চায়, ঘরোয়া আসরের সংখ্যা বাড়বে। ওরা খেলবে কিনা সেটা জিজ্ঞেস করেন। প্রিমিয়ার লীগ নিয়ে সমস্যা সমাধান হয়েছে। বাকিগুলো দেখছি, সেগুলোও ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের হার প্রত্যাশা ছিল না। ক্রিকেটে ফিক্সিং হয়েও থাকতে পারে। শিগগির ম্যাচ পাতানোর গুমর ফাঁস করা হবে।

আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ভারত সফরের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে। এতে ক্রিকেটাররা না এলে বিসিবির করার কিছু নেই। প্রয়োজনে অন্য পথে হাঁটব আমরা।

আনন্দবাজার/এম.কে

সংবাদটি শেয়ার করুন