ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমি সিদ্ধান্তটা নিয়ে ভয়ংকর অনুতপ্ত হয়েছিলাম: মেসি

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল। টাইব্রেকারে চিলির কাছে পরাজয়, স্বপ্নভঙ্গ আর চোখে জল। সেই রাতেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে আচমকা অবসরের ঘোষণা দেন লিওনেল মেসি। ফুটবলবিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া সেই সিদ্ধান্ত যে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল, তা এবার খোলাখুলি স্বীকার করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘লুজু’-কে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, আমি সিদ্ধান্তটা নিয়ে ভয়ংকর অনুতপ্ত হয়েছিলাম। খেলা দেখতাম আর মনে হতো, আমি মরে যেতে চাই।

কয়েক মাসের নিঃসঙ্গতা ও মানসিক যুদ্ধ

২০১৬ সালের জুনে কোপা আমেরিকার ফাইনালের পর থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় দুই মাস জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন মেসি। সেই সময়টাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই নিজের যন্ত্রণার ভার নিজেকেই বহন করতে হয়। কিন্তু নিজের অনুভূতিকে কখনো দমিয়ে রাখা উচিত নয়।

মেসির ভাষায়, তখন মানুষ কী বলছে, সমালোচনা বা প্রশংসা কোনোটিই তাঁর কাছে গুরুত্ব পায়নি। ভাগ্য ভালো, আমি আবার ফিরতে পেরেছি বলে যোগ করেন তিনি।

অবসরের ঘোষণা, তারপর প্রত্যাবর্তনের গল্প

চিলির কাছে হারের পর ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালের মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। সেদিন তিনি বলেছিলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে আমার সব শেষ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এটা আমার জন্য নয়।

আরও বলেছিলেন, আমি চারটি ফাইনাল খেলেছি তিনটি কোপা আমেরিকা, একটি বিশ্বকাপ। কিছুই জিততে পারিনি। আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু মনে হয় এখানেই শেষ।

তবে সেই সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তৎকালীন আর্জেন্টিনা কোচ এদগার্দো বাউসার সঙ্গে আলোচনার পর ২৭ জুন থেকে ১২ আগস্টের মধ্যেই অবসর ভেঙে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। সেই ম্যাচে একমাত্র গোল করে ১–০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দেন তিনিই।

হাল না ছাড়ার শিক্ষা

বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা মেসি সেই দুঃসময় থেকে পাওয়া শিক্ষার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো কখনো হাল না ছাড়া। পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়ানো এবং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও যেন বলা যায় স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সবটুকু চেষ্টা করেছি।

ম্যাচ শেষে সেই সময়ের অনুভূতি নিয়ে মেসি বলেছিলেন, আমি কাউকে ধোঁকা দিতে কিছু বলিনি। তখন সত্যিই আমি সেটাই অনুভব করছিলাম। আঘাতটা ছিল খুব গভীর। পরে সময় নিয়ে ভাবার সুযোগ পেয়েছি।

আজকের মেসি বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা জয়ী অধিনায়ক প্রমাণ করে দিয়েছেন, সবচেয়ে গভীর হতাশার পরও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন