ঢাকা | বৃহস্পতিবার
৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ,
২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষ করতে চায় পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মাঠে গড়ানোর আগেই পাকিস্তানে শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। ২৯ বছর পর কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করার আনন্দে এমন কিছু হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ না পেরোতেই ভক্ত-সমর্থকদের মনমরা অবস্থা।কারণ, গ্রুপ পর্বেই শেষ তাদের পথচলা।

নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬০ রানে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করে পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছেও পাত্তা পায়নি মোহাম্মদ রিজওয়ানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। আয়োজকদের সেমিফাইনালে যাওয়ার ন্যুনতম আশাটুকু নির্ভর করছিল পরশু রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের ওপর।কিন্তু নাজমুল হোসেন শান্তর বাংলাদেশ সেই ম্যাচ হেরে পাকিস্তানকে নিয়েই ডুবল। এই মাঠে আগামীকাল হতে যাওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতার।

‘এ’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তানের অপর দুই প্রতিপক্ষ ভারত, নিউজিল্যান্ড চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ঠিকই। তবে ‘শেষ ভালো যাঁর, সব ভালো তাঁর’—এই বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্যেই যে বিশ্বাস আকিবের। ম্যাচের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ বলেন, ‘আগামীকালের ম্যাচটা অন্যান্য ম্যাচের মতো গুরুত্বপূর্ণ। জীবন যখন আপনি হোঁচট খাবেন, তখন আপনি জানেন ঘুরে দাঁড়াতে কিছু একটা করতে হবে।’

যতই ম্যাচ এগোচ্ছে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের স্কোর ততই কমছে। করাচিতে গত বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রিজওয়ানের দল করেছিল ২৬০ রান। এরপর চলতি সপ্তাহের রোববার দুবাইয়ে ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তান গুটিয়ে গেছে ২৪১ রানে। আকিবের মতে ক্রিকেটারদের কাছে সব ম্যাচই চাপের এবং ব্যাটিংয়ের সময় চাপটা একটু বেশিই থাকে। পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ বলেন,‘দেখুন। ক্রিকেটের ব্যাপার যখন আসে, বাইরে থেকে আমরা শুধুই ম্যাচে নজর দিতে পারি। তবে কোনো ক্রিকেটারের জন্য প্রত্যেক ম্যাচই অনেক চাপের। যখন আপনি ব্যাটিং করবেন, কোনো কিছুই সহজ নয়। শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে।’

রাওয়ালপিন্ডিতে গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাইয়ের সিরিজে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদ পেয়েছিলেন ৬ ও ৪ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ হারলেও নাহিদ রানা, তাসকিন দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। বাংলাদেশের এই দুই পেসারের বোলিংয়ের প্রশংসা করেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিস।

বাংলাদেশের পেসারদের প্রশংসার পাশাপাশি নিজেদের পেস বোলিং আক্রমণের কথাও উল্লেখ করেছেন আকিব। পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ বলেন,‘এখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশি পেসারদের বোলিং করতে দেখেছি। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভালো বোলিং করেছে। তাদের দক্ষতাসম্পন্ন পেসার রয়েছে। নাহিদ রানার উচ্চতা,পেস দুটিই আছে। তাসকিনের দক্ষতা রয়েছে। মোস্তাফিজও রয়েছে এবং সে অনেক অভিজ্ঞ। তার সব ধরনের বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে শাহিন, নাসিম, হারিস—পাকিস্তানের পেসাররা আজকের দিনে অন্যতম সেরা। এমনকি ভবিষ্যতেও।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের দিনই পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা আকিবের চুক্তি শেষ হবে। পাকিস্তানের সাবেক পেসারও এই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন বলে শোনা যাচ্ছে। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানা গেছে, পিসিবি নতুন প্রধান কোচের নাম আগস্টে ঘোষণা করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন