রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) ঘোষণা করার পরপরই তাঁর নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভিভিআইপি প্রটোকলের অংশ হিসেবে এসএসএফ এই দায়িত্ব গ্রহণ করে।
হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, এসএসএফের সাতজন কর্মকর্তা এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার ভার বুঝে নেন। এ সময় তাদের সঙ্গে পিজিআর-এর ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল ইমতিয়াজ এবং মেজর আহনাফ উপস্থিত ছিলেন। এসএসএফ সদস্যরা বর্তমানে হাসপাতালের গাড়ি পার্কিং এলাকা এবং চতুর্থ তলায় খালেদা জিয়ার কেবিনের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের সার্বিক নিরাপত্তায় মোট কতজন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বা সুরক্ষা ব্যবস্থা কেমন হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেননি।
এর আগে, দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকার খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত জানায়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকরের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ যমুনার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তটি সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, সভায় খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো— হাসপাতালে তাঁর নির্বিঘ্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় সহায়তা করা, এবং তাঁর নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধাসহ উচ্চ মর্যাদা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে গত ২৩ নভেম্বর রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে পরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থাকে চিকিৎসকরা সংকটজনক বলে জানিয়েছেন।




