শুক্রবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস বন্ধ

বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস বন্ধ

বন্ধ দেশের ২০ হাজারের বেশি নৌযান

  • ১০ দফা দাবিতে ২ লাখ শ্রমিকের কর্মবিরতি

১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপী কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা। নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকা এ কর্মবিরতি শুরু হয় গত শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে। দেশের প্রায় ২০ হাজার নৌযানের দুই লাখের অধিক শ্রমিক অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। এদিকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে বন্ধ হয়ে যাবে মোংলা বন্দরে অবস্থিত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য পরিবহণের কাজ। একযোগে সারা দেশে নৌযান বন্ধের প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন নৌ-যাত্রীরা।

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দরা জানান, মজুরি বৃদ্ধি, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাশ, মৃত্যুকালীন ভাতা, নৌপথে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ, নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন, পণ্য পরিবহনে নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করাসহ ১০ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছে তারা।

বেশ কয়েক মাস ধরে সরকার ও মালিকপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক, দাবি উত্থাপন ও আন্দোলন কর্মসূচির মতো বহু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিন্তু মালিক পক্ষ বারবার সময় ক্ষেপণ করছে। সর্বশেষ ২৫ নভেম্বর সরকার ও মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিদের ১০ দফা দাবির বিষয়ে বৈঠক হলেও মালিকপক্ষ তা মেনে নেননি। তারা পুনরায় এক মাসের সময় চান। এতে শ্রমিকরা রাজি না হওয়ায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ রাত ১২টা ১মিনিট থেকে সারা দেশে কর্মবিরতি শুরু করেছে নৌযান শ্রমিকরা।

আরও পড়ুনঃ  পোশাক রপ্তানিতে ভাটার শঙ্কা

গতকাল রবিবার বন্দরের বর্হিনোঙ্গর ও কর্ণফুলী নদীর তীরে থাকা বিভিন্ন লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাসের কাজে শ্রমিকরা যোগ দেননি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, বন্দরে বর্হিনোঙ্গরে ২২টি বড় জাহাজে পণ্য খালাসে কার্যক্রম চলছিল, তবে কর্মবিরতির কারণে লাইটারেজ শ্রমিকরা কাজে যায়নি। শনিবার মধ্যরাত থেকে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে সারাদেশে এই কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। ধর্মঘটের ফলে সকালে ঢাকার সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোও ছেড়ে যায়নি। সকাল ১০টা পর্যন্ত চাঁদপুর ও ভোলার ইলিশা রুটে দশটির মতো লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও কর্মবিরতির কারণে সেগুলো ছাড়েনি।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম ভূইয়া বলেন, মজুরি পুনঃনির্ধারণ, মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ন্যূনতম ১০ লাখ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে মধ্যরাত থেকে সারাদেশে তাদের এ কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। সকল প্রকার নৌযান শ্রমিকেরা এ ধর্মঘটের অর্ন্তভুক্ত। গত বছরের জুন মাসে নতুন মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও দেড়বছরে তা হয়নি। আমরা আমাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করলেও কিছু না হওয়ায় কর্মবিরতিতে গিয়েছি। আমাদের দাবি যৌক্তিক। তেলের দামের বৃদ্ধির সঙ্গে নৌযানের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের এখন কোনঠাসা অবস্থা। তাদেরও তো বাঁচতে হবে।

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ মোংলা শাখার যুগ্মআহ্বায়ক মামুন হাওলাদার বলেন, দেশের সব জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে মালিকপক্ষ তাদের নৌযানের পণ্য পরিবহনের ভাড়াও বৃদ্ধি করেছে কিন্তু নৌযান শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। বারবার তাদের কাছে আবেদন করে আসছি, প্রতিবারই সময় নেয় কিন্তু আমাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। গত ১৯ নভেম্বর সরকার ও মালিক পক্ষকে জানানো হয়েছে শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি মানা না হলে ২৬ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর্মবিরতি পালন করবে নৌযান শ্রমিকরা। একথা যেনেও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা। তাই আমরা এ কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। ১০ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

আরও পড়ুনঃ  অলটেক্সের মজুদ পণ্যে নিরীক্ষকের আপত্তি

শ্রমিকদের ১০ দফা দাবিগুলো: নৌ-যান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদানসহ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ; খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা; দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা; চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল; নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ; ভারতগামী শ্রমিকদের লান্ডিং পাস প্রদানসহ ভারতীয় সীমানায় সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ; চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সকল লাইটারিং জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা এবং চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সব ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন