শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিক্রির চাপে লেনদেন

বিক্রির চাপে লেনদেন

সব ধরনের সূচকে পতন

লেনদেন

  • ডিএসইতে ১৮শ কোটি, সিএসইতে ১২৬ কোটি
  • সেরা ডিএসইতে ওরিয়ন, সিএসইতে ব্যাংক এশিয়া

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল রবিবার সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ডিএসইর বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে দুই স্টকের লেনদেন পরিমাণ বেড়েছে। লেনদেন বেড়ে ডিএসইতে ১৮শ কোটি ও সিএসইতে ১২৬ কোটি টাকায় ঘরে অবস্থান করেছে।

লেনদেন বৃদ্ধির প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, গতকাল ক্রয়ের চাপ কম ছিল। বিক্রয়ের চাপ বেশি। ফলে বিক্রয়ের চাপে গতকাল লেনদেন বেড়েছে। বিক্রয়ের চাপে বাড়লেও এদিন বেশির দর ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল।  

তারা আরো বলেন, সরকারের নতুন সময় সূচির প্রথম কার্যদিবস ডিএসইতে গত ২৪ আগস্ট (বুধবার) পতন হয়েছিল। যা আগের টানা ছয় কার্যদিবস উত্থানের পর এই মন্দা। পতন পরের দুই কার্যদিবস (বৃহস্পতিবার ও রবিবার) উত্থানে ছিল পুঁজিবাজার। ওইসময় লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিলো। পরেরদিন সোমবার লেনদেনে ভাটা পড়ে। সেখান থেকে পরের দুই কার্যদিবস লেনদেন কিছুটা বাড়ে। পরেরদিন লেনদেন আবারো কমে।

এরপরের কার্যদিবস লেনদেন বেড়ে ২৩শ কোটি টাকায় ওঠেছিল। এরপর জোয়ার ভাটায় চলে পুঁজিবাজারের লেনদেন। এরই ধারায় গত মঙ্গলবার লেনদেন বছরের সেরা রেকর্ড করেছিল। ওইদিন লেনদেন করে ২৮শ কোটি টাকা। ফের ভাটা পড়ে লেনদেন। গতকাল লেনদেন হয়েছে ১৮শ কোটি টাকা। এদিন ডিএসইর সব ধরনের সূচকের পতন হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চালের বাজারে লোভের হাত

গতকাল ডিএসইতে ১ হাজার ৮১০ কোটি  লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৮ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫১৫ দশমিক ১৬ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১৫ দশমিক ৭১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩২৯ দশমিক ৯১ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪২১ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্টে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৯৩টি এবং কমেছে ১১৭টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ১৬০টির। এদিন ডিএসইতে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ওরিয়ন ফার্মা ১৭৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ১১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ইউনিক হোটেল ৯৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, বিডিকম ৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৬২ কোটি ৭ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ৫৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ইস্টার্ন হাউজিং ৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, শাহজিবাজার ৪১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, বিবিএস ৪১ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন ৩৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

অপরদিকে সিএসইতে গতকাল রবিবার লেনদেন হয়েছে ১২৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা শেয়ার। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ৯৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৭৪টি, কমেছে ৮৩টি এবং পরিবর্তন হয়নি ৮৩টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৬১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৮৩ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্টে।

আরও পড়ুনঃ  ফিডের চাপে সম্ভাবনা ফিকে

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ২০ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ২৭ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৯৭ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ১৪ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৮০ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৪৭৮ দশমিক ১৮ পয়েন্ট, ১১ হাজার ৪৯৮ দশমিক ২৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৩৪ দশমিক ৩০ পয়েন্টে।

এদিন সিএসইতে ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ব্যাংক এশিয়া ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রিমিয়ার ব্যাংক ২০ কোটি ৩২ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, মাকের্ন্টাইল ব্যাংক ১৪ কোটি ৩ লাখ টাকা, ম্যারিকো ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এবং জেএমআই হসপিটাল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন