শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাজেটের পরই বড় দরপতন

বাজেটের পরই বড় দরপতন
  • লেনদেন কমে ৬শ কোটি টাকার ঘরে
  • সেবা-চামড়ায় কমেছে শতভাগ দর

আসন্ন অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেট পেশের পর প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল রবিবার লেনদেন কমে ৬শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। অপরদিকে, চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমে ২০ কোটি টাকার ঘরে রয়েছে। এদিন দুই স্টকের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। ডিএসইর ৮১ ভাগ এবং সিএসইর ৭৫ ভাগ কোম্পানির দর কমেছে। উভয় স্টকে সব ধরনের সূচক পতন হয়।

রেগুলেটরদের বিভিন্ন উন্নয়ন পরও দীর্ঘ সময় পুঁজিবাজার পতনের কবলে। সেই পতন দিন দিন বাড়ছিলো। হঠাৎ করেই সেই পতন থমকে দাঁড়ালো। পরে ফের পতন রুপে। সেই ধারায় গতকাল রবিবার পতনে পুঁজিবাজার। এদিন ক্রেতার চাপ কম ছিল। বাড়ে বিক্রেতার চাপ।

বিভিন্ন মহলের শত চেষ্টায় পুঁজিবাজার উত্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি আগারগাওয়ে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, সবাই ধৈর্য ধরুন,পুঁজিবাজার ভালো হবে। শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের এমন আশ্বাসের ঠিক পরের কয়েক কার্যদিবস সত্যিই ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। সেই উত্থান ফের মন্দায় চলে আসে।

এদিকে, আসন্ন অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেট পেশের পর প্রথম কার্যদিবস রবিবার পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট কর ছাড় দেয়া হলেও পুঁজিবাজারে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে বিনা প্রশ্নে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানায় সিএসই।

আরও পড়ুনঃ  রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছেই

এ প্রসঙ্গে সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা রহিত করা হয়। এই সুবিধা আগামী বছর পর্যন্ত বহাল রাখার জন্য আমরা বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। এতে বাজার যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। পাশাপাশি অর্থপাচার কমবে। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে সূচক পতন। ফলে সূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

ডিএসইতে এদিন দুই খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। শতভাগ দর হ্রাসের খাতগুলো হলো- সেবা আবাসন এবং চামড়া। এদিন ব্যাংক, সিমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, নন ব্যাংকিং আর্থিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানী শক্তি, বিমা, আইটি, পাট, বিবিধ, ফান্ড, ওষুধ রসায়ন, পেপার, বস্ত্র, টেলিকম এবং ভ্রমন অবসর খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন সিমেন্ট খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। শেয়ার দর কমার একই চিত্র ছিল পুঁজিবাজার সিএসইতে।

পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৮০ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং সিএসইর ৭৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। অপরদিকে, ডিএসইর ১৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং সিএসইর ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের হ্রাসকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেলের পর নজর বোতলজাত সয়াবিনে

ডিএসইতে গতকাল রবিবার লেনদেন হয়েছে ৬৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৭৫৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ৩০৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৯টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৮০ দশমিক ৩০ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ২৬ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩৫২ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪১৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে।

অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৪ লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৯টির, কমেছে ২২৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৬টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৩৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৯১ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১০ দশমিক ৮১ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১২২ দশমিক ৯১ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৮১ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৬১৬ দশমিক ৮১ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৩১ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৯৬ দশমিক ১৬ পয়েন্টে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন