সম্প্রতি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। এ সুযোগে কিছু অসাধু আড়তদার সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে তাদের গুদামে পেঁয়াজ মজুত রেখে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
এবার বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টায় মাঠে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজের খোঁজে এবার মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।
প্রথমবারের মতো দেশটি থেকে ২০০ টন পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। ফলে পেঁয়াজ আমদানিতে বাংলাদেশের সামনে এখন ভারতের বিকল্প সাত দেশ। অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, মিয়ানমার, চীন, মিসর, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
ভারতের বিকল্প সাতটি দেশ থেকে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় পাঁচ হাজার টন বন্দর থেকে খালাস হয়েছে। বাকি ৬১ হাজার টন এ মাসের শেষে ও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বন্দরে এসে পৌঁছার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী।
পেঁয়াজ আমদানির সর্বশেষ বিকল্প উৎস উজবেকিস্তান অবশ্য বাংলাদেশের ব্যবসায়িক অংশীদার। দেশটিতে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। আর দেশটি থেকে বাংলাদেশ যা আমদানি করে, তার ৯৯ শতাংশই তুলা। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলো পেঁয়াজ।
আমদানিকারকেরা জানান, উজবেকিস্তানের কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। তাই দেশটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সমুদ্রবন্দর হয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে থাকে।
ভারতের বিকল্প দেশ হিসেবে এবার মিসর থেকেই সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। দেশটি থেকে চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ পাঁচটি চালানে ৫৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খুলেছে। গ্রুপটির কর্মকর্তারা পেঁয়াজ আমদানির জন্য এখন মিসরে রয়েছেন। দেশটি থেকে গতকাল পর্যন্ত অবশ্য আড়াই হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
এদিকে, পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে আবারও অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
আনন্দবাজার/ইউএসএস
