সম্প্রতি পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে রাঙামাটি। প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক আসতে শুরু করছে পাহাড়ি জেলাটির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে। এতে জেলায় বিগত কয়েক মাসের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি কাটিয়ে আবারও সামনের দিকে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, করোনার সংক্রমন প্রতিরোধ করতে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখে পড়ে দেশের পর্যটন খাত। আর তখন থেকেই অনিশ্চিত ক্ষতির হার কেমন হয় তার হিসাব নিকাশ করতে করতে কেটে যায় চারটি মাস। তারপরই আকস্মিক ঘোষণায় খুলে দেওয়া হয় হোটেলগুলো। কিন্তু পর্যটন স্পট না খুলায় হোটেল খুলে ব্যবসায়ীদের তেমন কোন লাভ হয়নি।

কিন্তু গত ৩রা আগস্ট রাঙামাটি খ্যাত পর্যটন ঝুলন্ত ব্রিজ খুলে দেওয়া হয় বেশ কিছু স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত সাপেক্ষে। আর তখন থেকেই পর্যটকের আনাগোনায় সচল হতে শুরু করে পর্যটন ব্যবসায়ের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের এই দুয়ার আরও প্রসারিত হয় গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ৭শর্তে সাজেক ভ্যালি খোলার সিদ্ধান্ত আসার পর। এরপর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক এক করে খুলতে শুরু করে রাঙামাটির পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় স্পট পলওয়েল পার্ক, রাঙামাটি পার্ক, সুবলং ঝর্ণাসহ বেসরকারি মালিকানায় গড়ে উঠা প্রায় সব পর্যটন স্পট।

রাঙামাটির ট্যুরিস্ট বোর্ট ব্যবসায়ী প্রমথ কর্মকার জানান, গেল চারটি মাস পর্যটক বিহীন রাঙামাটিতে আমাদের বোর্টগুলো ঘাটে বাধা ছিল। কিন্তু পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাঙামাটিতে পর্যটকের আনাগোনা শুরু হয়েছে। যার কারণে আমরা আমাদের ট্যুরিস্ট বোর্টগুলো আবার ভাড়াদিতে শুরু করেছি। এতে বর্তমানে কিছুটা হলেও আমরা স্বস্থিতে আছি এবং ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছি।

এই ব্যাপারে রাঙামাটি পর্যটন কপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন কান্তি বড়ুয়া বলেন, রাঙামাটির পর্যটন করর্পোরেশনের করোনার বন্ধ সময়টাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে আমাদের পর্যটন স্পট এবং হোটেলে কিছু কিছু পর্যটক আসতে শুরু করেছে। তবে তা তেমন বেশি না। আশা করছি আমরা ভবিষ্যৎতে করোনা পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হলে পর্যটকের হার বাড়বে এবং আমরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।
আনন্দবাজার/ এইচ এস কে/ এম ডি


