জম্মু-কাশ্মীরের ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির লড়াই শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সেনা সূত্র জানায়, রবিবার ভোর থেকে লড়াই শুরু হয়েছে। ভারতীয় সেনাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের দিক থেকেই প্রথম গোলাগুলি চালানো শুরু হয়েছিল।
সেনা সূত্র জানায়, রবিবার ভোর পাঁচটা ৪৫ মিনিটে জম্মুর পুঞ্চ জেলার মানকোট সেক্টরে প্রথম গুলি চালাতে শুরু করে পাকিস্তানি সেনা। তারপর তারা মর্টারও ছোড়ে। এরপর পাল্টা আঘাত হানে ভারতীয় সেনা। রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত গোলাগুলি চলেছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আবারও কেনো লড়াই শুরু হলো, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রতি বছরই শীতের ঠিক আগে পাকিস্তানের দিক থেকে ভারতে ‘জঙ্গি’ ঢোকানোর চেষ্টা করে পাক সেনা। সেজন্যই এক দিকে ভারতীয় সেনাকে গোলাগুলির যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে অন্য দিক থেকে অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা হয়।
রবিবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল দিলবাগ সিং বলেন, সীমান্তে একটি বড়সড় সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তার অভিযোগ, ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর ওই সুড়ঙ্গ পাকিস্তান সীমান্ত থেকে ভারতে ঢোকার রাস্তা।
দিলবাগ আরও বলেন, ওই সুড়ঙ্গের পথ ধরেই কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে জঙ্গিরা। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিশেষজ্ঞদের অন্য অংশের মতে, নতুন করে ভারত-পাক সীমান্তে এই গুলির লড়াইয়ের পিছনে আরও বড় বিষয় রয়েছে। কিছুদিন আগে ভারতীয় গোয়েন্দারা এনএসএ অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছিলেন, লাদাখ সংঘাত কাশ্মীর সীমান্তেও নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। এ ব্যাপারে পাকিস্তানের সাহায্য চেয়েছে তারা।
ভারতীয় গোয়েন্দারা জানান, লাদাখের ভারত-পাক সীমান্তে পাকিস্তান সৈন্য বাড়িয়েছে। পাশাপাশি পুঞ্চ সহ বেশ কিছু অঞ্চলেও পাকিস্তান সেনা বাড়িয়েছে। এই মুহূর্তে ভারত লাদাখের প্যাংগং অঞ্চলে সব চেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেই সুযোগ কাজে লাগাতেই পাকিস্তান নতুন করে কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।
আনন্দবাজার/টি এস পি
