মাল্টা এবং কমলার চাষ বলতে আগে শুধু সিলেটের নামটাই সবসময় সামনে আসত। কিন্তু দিন দিন সেই ধারণা একেবারেই পাল্টে যাচ্ছে। দেশের অনেক জায়গাতেই এখন মাল্টা চাষে সাফল্যের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সিলেটের বাইরে সম্ভাবনাময় এ ফল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বরিশাল ও দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষকরাও। সম্প্রতি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুরুদাস ব্যানার্জি শ্যামল ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাগর আলী মন্ডলের মাল্টা চাষে সাফল্য দেখে আগ্রহী হচ্ছেন অন্যান্য কৃষকরাও। তাছাড়া স্থানীয়দের কাছে রসালো এবং সুস্বাদু এ ফলের কদরও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সম্প্রতি বরিশালে সরেজমিন গিয়ে গুরুদাস ব্যানার্জিকে তার খামারে মাল্টা চাষে কাজ করতে দেখা গেছে। তার মাল্টা বাগানটি একটি সবুজের হাতছানি। গাছগুলো মাল্টার ভারে নুয়ে পড়েছে। গেল মৌসুমে দেড় লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন গুরুদাস। চলতি বছরও দুই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে আশাবাদী তিনি।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে মাত্র ৩০ শতক জমি নিয়ে তাতে মাল্টা চাষ শুরু করেন গুরুদাস। বর্তমানে তার বাগানে বারি মালটা-১ ও ইন্ডিয়ান প্রজাতির বেশ কয়েকটি গাছ রয়েছে। বরিশালের বাজারে গুরুদাসের মাল্টা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি দর ১২০ থেকে ১২৫ টাকা।
এই ব্যাপারে উজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন তালুকদার জানান, গুরুদাসের মাল্টা চাষ দেখে এখন আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই। উপজেলায় ইতিমধ্যে শতাধিক মাল্টা বাগান হয়েছে। স্থানীয়দের প্রয়োজন মিটিয়ে নানা শহরেও তা বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে পার্বতীপুর (দিনাজপুর) থেকে জানা যায়, মাল্টা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন উপজেলার তাজনগর ম-লপাড়া গ্রামের সাগর আলী মন্ডল। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নিজ গ্রামে একটি কৃষিখামার করে মাল্টা চাষ করছেন সাগর। বাগানে উন্নতজাতের বারি-১ মাল্টা ও পাকিস্তানি ছাতকি মালটার বীজ রোপণ করে চারাগাছ তৈরি করছেন তিনি।
সাগর আলী মন্ডল বলেন, ২০১৯ সালে ১৩ এপ্রিল জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের একটি নার্সারি থেকে ৪০ হাজার টাকায় ২৫০টি মাল্টার চারা কিনে এনে রোপণ করেন। ১ বছর ৫ মাস পর ২৩০টি গাছে ১০-১৫টি করে ফল আসে। ফলগুলো পাকার পর খুবই মিষ্টি হয়। স্থানীয় মন্মথপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আ. রহিম জানান, মাল্টা এবং লেবু কম খরচে বেশি উৎপাদনশীল অর্থকরী ফসল। পার্বতীপুরে এটি উল্লেখযোগ্য কৃষি বাগান। এ ব্যাপারে তারা সার্বক্ষণিক তদারকি এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে
