সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষ দ্বিতীয় উত্তোলনকারী দেশ এখন রাশিয়া। চলতি বছরের জুনে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন করে তালিকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বদলে গেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থান। দ্বিতীয় আবস্থান থেকে নেমে তৃতীয়তে এসেছে সৌদি আরব। গত জুনে দেশটি এ অবস্থান হারিয়েছে।
জুনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে রাশিয়া। আর তালিকায় সৌদি আরবের অবস্থান তৃতীয় শীর্ষে। জয়েন্ট অর্গানাইজেশনস অব ইনিশিয়েটিভের (জেওডিআই) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে রাশিয়ার কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮৭ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছে। এর বিপরীতে একই সময়ে সৌদি আরবের নিজস্ব কূপগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ লাখ ব্যারেলে।
করোনাভাইরাস জ্বালানি পণ্যটির চাহিদায় রেকর্ড পতন ঘটিয়েছে। এর ফলে বছরের শুরু থেকেই তুলনামূলক কমতির দিকে ছিল জ্বালানি তেলের দাম। মার্চ নাগাদ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে রাশিয়ার সঙ্গে মূল্যযুদ্ধে জড়ায় সৌদি আরব। ওই সময় জ্বালানি তেলের উত্তোলন ও রফতানি দুটোই বাড়িয়ে দেয় রিয়াদ।
তবে দ্রুতই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এর পেছনেও প্রভাবক হিসেবে অবদান রাখে সৌদি আরব ও রাশিয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রেকর্ড দরপতনের লাগাম টানতে দেশ দুটির উদ্যোগে দ্রুতই তৎপরতা হয়ে ওঠে পণ্যটির রফতানিকারকদের জোট অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) ও এর মিত্র দেশগুলো। দুই দেশের উদ্যোগে ওপেক প্লাস নামের এ জোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ লাগাম টানতে চুক্তি করে। কমিয়ে আনা হয় জ্বালানি পণ্যটির রফতানিও।
ওপেক প্লাসের এ চুক্তির আওতায় জুনে সৌদি আরবকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর কোটা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। তবে বাজার ভারসাম্য ফেরানোর স্বার্থে দেশটি স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্ধারিত কোটার তুলনায় দৈনিক গড়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার কাছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে সৌদি আরব।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস
