সোমবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনার ভয়ে ঠাঁই হয়নি হাসপাতালে, মৃত্যু হলো গাড়িতেই

অসুস্থ মো. এনায়েত উল্ল্যাহ (৭২) কে দিতে হবে অক্সিজেন। অক্সিজেন দেয়ার জন্য এই হাসপাতাল থেকে সেই হাসপাতাল। নিজেদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন তার স্বজনেরা। কোন হাসপাতালেই ভর্তি করতে না পেরে শেষমেষ মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

করোনাভাইরাস এর এই সংকটকালে অসুস্থ শ্বশুরকে নিয়ে একের এর এক হাসপাতাল ঘুরেও ভর্তি করাতে না পারার দুর্বিষহ বেদনা জানিয়ে আবদুল কাইয়ুম বলেন, এভাবে মাথায় আঘাতের রোগীকে যদি করোনা রোগী ভেবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?

গত ৩০ মে রাতে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের নিজ বাসার বাথরুমে পড়ে যান এনায়েত। স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়ে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে বাসায়ই চিকিৎসা চলছিল তার। পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় রূপগঞ্জের কর্নগোপ এলাকার ইউএস বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে, দেওয়া হয় অক্সিজেন। সেখানে অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দেওয়ায় নতুন হাসপাতাল খুঁজতে হয় এনায়েতের পরিবারকে। অসুস্থ এনায়েতকে একটি গাড়িতে নিয়ে বের হন তার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ, মেয়ে ও জামাতা।

গত বৃহস্পতিবার সেই খোঁজা শুরু করার পরই দুঃসহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানান কাইয়ুম। তিনি বলেন, ইউএস বাংলা হাসপাতাল থেকে তারা সানারপাড়ের একটি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ওই হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তাদের ভোগান্তি শুরু হয়।

কাইয়ুম বলেন, উনারা রোগীকে নিচে না নামিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল টিকেট কাটার পর রোগীকে কোভিড-১৯ ইউনিটে নিতে বলা হয়। আমরা বারবার বলছিলাম, উনার করোনাভাইরাস নেই। পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। ডাক্তার আমাদের কোনো কথাই শোনেনি।

আরও পড়ুনঃ  প্যারিসে অনুষ্ঠেয় প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

পরে এক স্বজনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এনায়েতকে। ভর্তির প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকেটে কোভিড-১৯ সাসপেক্টেড দেখে তারা ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তাকে নেয়া হয় মুগদা হাসপাতালে।

অনেক অনুরোধের পর মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি নিতে রাজি হলেও সরকারি নিয়ম অনুসারে কোভিড-১৯ ধরা পড়ুক আর না পড়ুক রোগীর মৃত্যু হলে আঞ্জুমান মফিদুলে হস্তান্তর করার শর্ত জুড়ে দেয়। পরিবারের সদস্যরা তখন ভর্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তাকে গাড়িতে তুলতে গেলেই তার মৃত্যু হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতালে সাধারণ রোগী ভর্তি করাতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। সরকারের পক্ষ থেকে নানা হুঁশিয়ারির পরও ভোগান্তির অবসান ঘটছে না কিছুতেই।

আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন