মৌলভীবাজারের মধু চাষে দেখা দিয়েছে সম্ভাবনা। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মধু চাষে ঝুঁকছেন এই অঞ্চলের চাষিরা। এখানকার চাষিরা মধু উৎপাদন করে বছরে আয় করেছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা।
মৌলভিবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া প্রথম মধু চাষ শুরু করেন। বিভিন্ন পাহাড়ে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতেন তিনি। বছর কয়েক আগে মধু সংগ্রহের সময় হঠাৎ ধরা পড়ে একটি রানী মৌমাছি। রানী মৌমাছিকে তার বাড়ি নিয়ে আসলে কয়েক দিন পর বাক্সে হাজারো মৌমাছি জমা হয়ে মধু আহরণ শুরু করে। সেখান থেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার মধু চাষের শুরু। বর্তমানে নিজের ২০টি বাক্স, পাহাড় থেকে সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করেন তিনি।
তার এই মধু চাষের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্যরা মধু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাদের উৎপাদিত মধু বাজারজাত করে ১ বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয় করেছেন। আর তাদের এই অভাবনীয় সাফল্যে এগিয়ে এসেছে বিসিক। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিসিক) মৌলভীবাজার ধরে মধু চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মধু আহরণ ও সংরক্ষরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামে প্রথম মধু চাষের সূচনা হলেও বর্তমানে আদমপুর ও পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ কালারায়বিল, ছয়ঘরি, কাঠালকান্দি, কোনাগাঁও, কানাইদেশী, রাজকান্দি, আধকানি, পুরানবাড়ি, নয়াপত্তন, কমলগঞ্জ পৌরসভার শ্রীনাথপুর, আলেপুর, কামারগাঁও ও ভানুগাছ এলাকার প্রায় ৩৫টি গ্রামের ৪ শতাধিক চাষি মধু চাষে নিজেদের জড়িয়ে নিয়েছেন।
মধু চাষি কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া জানান, মধু চাষ করে অল্প খরচেই লাখ লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। মধু চাষাবাদের শুরুতে শুধুমাত্র একটি বাক্সে মৌমাছি সংগ্রহে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ ব্যতীত আর কোনো খরচ নেই। এক একটি বাক্সে বছরে চার বারে ৩০ থেকে ৩৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। বাজারে প্রতি কেজি মধুর দাম ১ হাজার টাকা হিসাবে বছরে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
কমলগঞ্জে মধুচাষি উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শিক্ষক আলতাফ মাহমুদ বাবুল বলেন, এলাকায় মধু চাষের এমন নীরব বিপ্লব ঘটছে। বর্তমানে বিসিক ও কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেন মধুচাষিরা। এই এলাকায় মধু চাষের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
কমলগঞ্জের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই এলাকা মধু চাষের চিহ্নিত জোন হিসাবে গড়ে তোলা যাবে। বিশেষত আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নে মধু চাষে একটা ব্র্যান্ড তৈরি হতে পারে।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস/আর এ

