দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা আন সুং-কি সোমবার ৭৪ বছর বয়সে জীবনসমাপ্তি ঘটিয়েছেন। ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিনেমা জগতে অবদান রাখা এই তারকা দেশব্যাপী অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন।
আন বহু বছর ধরে রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। তিনি সিওলের সুনচুনহ্যাং ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তাঁর এজেন্সি আর্টিস্ট কোম্পানি এবং হাসপাতাল সূত্র।
তার এজেন্সি জানিয়েছে, “আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি এবং পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং টুইট করেছেন, “আন বহু মানুষের জীবনে আনন্দ ও ভাবনার মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। আমি তাঁর উষ্ণ হাসি ও কোমল কণ্ঠকে মনে রাখব।”
আন সুং-কি ১৯৫২ সালে দাগুতে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৫ বছর বয়সে ‘দ্য টোয়াইলাইট ট্রেন’ সিনেমার মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। প্রথমদিকে প্রায় ৭০টি সিনেমায় কাজ করার পর তিনি সিনেমা থেকে সাময়িক বিরতি নেন।
১৯৭০ সালে হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজে ভিয়েতনাম অধ্যয়ন করেন। স্নাতক হয়ে বড় কোনো কোম্পানিতে চাকরি না পেয়ে ১৯৭৭ সালে আবার চলচ্চিত্রে ফেরেন।
১৯৮০ সালে ‘গুড, উইন্ডি ডেজ’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন এবং গ্র্যান্ড বেল অ্যাওয়ার্ডসে শ্রেষ্ঠ নবীন অভিনেতার পুরস্কার পান। এরপর আশি ও নব্বইয়ের দশকে তার অভিনয় দক্ষতার জন্য বহু সেরা অভিনেতার পুরস্কার তিনি অর্জন করেন।
আনের উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘মানদারা’, ‘হোয়েল হান্টিং’, ‘হোয়াইট ব্রিজ’, ‘টু কপস’, ‘নো হোয়ার টু হাইড’, ‘রেডিও স্টার’ ইত্যাদি।
ব্যক্তিগত জীবনেও আন ছিলেন নম্র, বিশ্বস্ত এবং পরিবারকেন্দ্রিক। তিনি বড় কোনো কেলেঙ্কারিতে জড়াননি এবং জনমত জরিপে দেশটির সবচেয়ে প্রিয় অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “প্রথমে এত পরিচিতি কিছুটা বিব্রতকর মনে হতো, কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম, এটা আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছে।”
আন সুং-কি পরিবারে স্ত্রী ও দুই পুত্রকে রেখে গেছেন। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সিউলের একটি হাসপাতালে শোককেন্দ্র খোলা থাকবে।


