ভারতের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ঢাকায় তলব করে বৈঠক করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় আধঘণ্টা ধরে তিনজনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানান, “বিভিন্ন সময় কূটনীতিকদের ঢাকায় ডেকে এনে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।” তবে ড . খলিলুর রহমান বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছুই বলেননি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও বৈঠক সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে সোমবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জরুরি ভিত্তিতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত হাইকমিশনারকে তলব করে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক উত্তেজনা।
বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ এবং ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ককে চাপের মধ্যে ফেলে। একই সময়ে ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতির জেরে ঢাকা-দিল্লি উভয়স্থ হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোর ভিসা ও কনস্যুলার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মোটের ওপর, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দেশ কূটনীতিকদের তলব করেছে। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে নতুন ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করার প্রতিক্রিয়ায় একই দিনে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকেও তলব করা হয়। এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।


