ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ বছরের সবচেয়ে ছোট দিন ও দীর্ঘতম রাত

আজ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫। উত্তর গোলার্ধে আজ বছরের সবচেয়ে ছোট দিনসবচেয়ে দীর্ঘ রাত, কারণ আজ সংঘটিত হচ্ছে শীত অয়নান্ত, যা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিকভাবে শীত ঋতুর আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হয়।

শীত অয়নান্ত হলো সেই মুহূর্ত, যখন পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে সর্বাধিক দূরে হেলে থাকে। এর ফলে সূর্যের আলো সবচেয়ে কম সময় উত্তর গোলার্ধে পৌঁছায়, তাই দিনটি সবচেয়ে ছোট এবং রাতটি দীর্ঘ হয়। এটি নির্দিষ্ট একটি মুহূর্তে ঘটে এবং বছরের অন্যান্য দিনের মতো পুরোদিনব্যাপী ঘটনা নয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৯টা ৩ মিনিটে শীত অয়নান্ত সংঘটিত হবে। এই সময় সূর্য আকাশে তার সবচেয়ে নিচু অবস্থানে থাকবে উত্তর গোলার্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে। আজ সূর্য অবস্থান করছে মকরক্রান্তি রেখার ঠিক ওপর, যার কারণে দক্ষিণ গোলার্ধে দেখা যাচ্ছে বছরের সবচেয়ে বড় দিন এবং সবচেয়ে ছোট রাত। বিপরীতভাবে, উত্তর গোলার্ধে সূর্যের আলো সর্বনিম্ন, তাই দিন সবচেয়ে ছোট ও রাত সবচেয়ে দীর্ঘ।

পৃথিবীর নিজ অক্ষের ২৩.৫ ডিগ্রি কাত হওয়াই ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব শীতকাল নির্ধারণে প্রভাব ফেলে না; যেমন জানুয়ারিতে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে হলেও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল বিরাজমান থাকে।

শীত অয়নান্তের পর সূর্য ধীরে ধীরে বিষুবরেখার দিকে উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করে। ফলে দিন ক্রমে বড় হতে থাকে এবং রাত ছোট হতে থাকে। এই প্রক্রিয়া প্রায় ছয় মাস ধরে চলে এবং গ্রীষ্ম অয়নান্তে গিয়ে শেষ হয়।

শীত ও গ্রীষ্ম অয়নান্তের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে দুটি বিষুব, একটি মার্চে ও অন্যটি সেপ্টেম্বর মাসে, যার ফলে দিন ও রাত প্রায় সমান হয়। এই দুই বিষুব দিয়েই যথাক্রমে বসন্ত ও শরৎ ঋতুর সূচনা ধরা হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে শীত অয়নান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিন সূর্য আকাশে তার সবচেয়ে নিচু পথে চলাচল করে, তবে বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য ওঠা ও অস্ত যাওয়ার সময়ের চূড়ান্ত পরিবর্তন কয়েক দিন আগে বা পরে হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন