জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পরিকল্পিত সহিংসতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, এসব হামলার উদ্দেশ্য একদিকে নির্বাচন বানচাল করা, অন্যদিকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করা।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ ধরনের টার্গেট কিলিং কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, “নির্বাচন বানচাল ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করতেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রশাসনের একটি অংশ জড়িত।” তিনি দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, তা না হলে গণহত্যাকারীরা আবারও ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় অনেক সংবাদমাধ্যম আওয়ামী লীগের মতাদর্শ প্রচার করে ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের পক্ষে কথা বলার মতো বুদ্ধিজীবীরা অতীতেও ছিলেন, এখনও আছেন এবং তাঁরা নিশ্চয়ই সাংস্কৃতিক ও চিন্তার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফ মোস্তাফিজসহ দলের অন্যান্য নেতারা। শেষে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার এখনো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।


