শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
খাগড়াছড়ি কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল---

বেহাল টার্মিনালে ভোগান্তি

বেহাল টার্মিনালে ভোগান্তি

খাগড়াছড়ি শহরের কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালের বেহাল দশা। এটি টার্মিনাল নাকি ধানের জমি বোঝার উপাই নেই। এমন অবস্থায় গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। টার্মিনালজুড়ে বড় গর্তে পানি জমে থাকায় যাত্রীরা মালামাল নিয়ে বাসে উঠতে পারছে না। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও ফেনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে যায়। তাছাড়া জেলার সকল উপজেলা গাড়ি ছেড়ে যায় শতশত যানবাহন। 

টার্মিনাল গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালজুড়ে গর্ত আর গর্ত। গর্তে পানি জমে থাকে মাসের পর মাস। কাদার জন্য যাত্রীরা নিরাপদে বাসে উঠতে পারে না। নারীরা বাসে উঠতে হয় পোশাক ভিজিয়ে।

খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন চালক সমবায় সমিতি ও বাস-মিনিবাস শ্রমিক সমিতি জানায়, ১৯৮৫ সালে খাগড়াছড়ি শহরে কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালটি স্থাপিত হয়। এ পর্যন্ত সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান টার্মিনালের উন্নয়নের কাজ করেনি। দুই সমিতির পক্ষ থেকে ইট ও বালু দিয়ে সংস্কার করে। অথচ টার্মিনাল দায়িত্বে রয়েছেপৌরসভা। 

পিকাআপ চালক প্রদীপ ত্রিপুরা বলেন, ছয় বছরের বেশি সময় টার্মিনালের অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গর্তগুলো পুকুরেরমত হয়েছে। বৃষ্টি আসলে পানি জমে থাকে। গাড়ি রাখতে পারি না। কাদার মধ্যে গাড়ি চালে দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ি যেখানে রাখা হয় যাত্রীরা গাড়িতে উঠতে কষ্ট হয়। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও ফেনীর যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছে।

ট্রাক চালক শাহআলম, দীল আহম্মদ, জাহাঙ্গীর বলেন, গাড়ি রাখা দূরের কথা টার্মিনালে মানুষ হাঁটতে ভয় পায়। পুরো টার্মিনালে যে পরিমাণ কাদা নদীতেও এত কাদা থাকে না। টার্মিনালে একটি মসজিদ আছে। নামাজ পড়তে ঠিকমত মসজিতে যেতে পারি না এমন বেহাল অবস্থা।    

আরও পড়ুনঃ  রেমিট্যান্স আহরণে অষ্টম বাংলাদেশ

খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন চালক সমবায় সমিতির কর্মকর্তা মমিনুল হক বলেন, টার্মিনাল থেকে একটি ট্রাক বের হলে পৌরসভাকে ৫০ টাকা টোল দিতে হয়। পৌরসভার কাজ হচ্ছে টার্মিনাল দেখা-শোনা করা। মেয়রকে জানানো হয়েছে তিনি বলেছেন সংস্কার করবেন। কিন্তু কোন খবর নেই। গর্ত হলে আমাদেরকে ভরাট করতে হয়।

পৌর টার্মিনাল মসজিদের খতিব মওলানা সালাউদ্দিন বলেন, বৃষ্টি পড়লে টার্মিনারের অবস্থা শোচনীয়। বিশাল গর্তে পানি জমে ও কাদা মাটির জন্য মসজিদে মুসল্লিরা আসতে পারে না। অল্প ইট বালু দিয়ে মেরামত করতে পারে। মুসল্লিরা খুব কষ্ট করে মসজিদে আসে। এমন অবস্থা কেউ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।    

জীপ-পিকাআপ মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল আজিম বলেন, বড় বড় গর্তে পানি জমে আছে। কাদা আর কাদা। টার্মিনালের কোনো পরিবেশ নেই। মানুষ চলাচলের পরিবেশ নেই।

তিনি বলেন, মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে কষ্ট করে। আর এক বেলা যেতে ইচ্ছে করে নাই। সড়কের এমন বেহাল অবস্থা। আমরা বিভিন্ন জায়গায় বলে কাজ হচ্ছে না। আমাদের সাড়ে চারশ গাড়ি আছে। কাদাতে গাড়িগুলো রাখতে হয়। গাড়ির জং ধরে যায়।  

বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মোমিন বলেন, কাদা-মাটিতে হেঁটে যাত্রীরা বাসে উঠতে হয়। মহিলারা কাপড় ভিজে গাড়িতে উঠতে অনেক সময়। যেখানে গর্ত আছে ভরাট করে দিলে ভালো হয়। যাত্রীরা সুন্দর করে গাড়িতে উঠতে পারবে।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, আমাদের এখন কোনো প্রজেক্ট নেই। আমি চেষ্টা করছি আগামী ডিসেম্বরে কাজ শুরু করতে।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন