ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হুমড়ি খাচ্ছেন লাইনে

হুমড়ি খাচ্ছেন লাইনে
  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সস্তায় চাল-ডাল কেনা
  • ৫০ টাকার চাল ওএমএসে ৩০

ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রি শুরু করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। বাজারে বিক্রি হওয়া ৫০ টাকা কেজি দরের মোটা চাল এখানে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। বাজারের তুলনায় ২০ টাকা কম হওয়ায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরা। এতে ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্রে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও চাল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকের।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসময় বিক্রয়কেন্দ্র ও ট্রাকসেলের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শত শত সাধারণ মানুষকে।

কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেউ কেউ ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই দাঁড়িয়েছেন লাইনে। অনেক জায়গায় পণ্য নিতে হুড়োহুড়ি করছে মানুষ। এরপরও চাল কিনতে পারলে খুশি তারা। আমেনা বেগম নামের এক নারী বলেন, এখান থেকে চাল কিনতে পারলে ১০০ টাকা বাঁচে। আমরা গরিব মানুষ। এটা আমাদের জন্য অনেক।

রাজধানীর আজিমপুরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসনের সামনে ওএমএসের ট্রাকে বিক্রি করা হয়েছে চাল। চাল ও আটা কিনতে নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ওই লাইনে প্রায় ১৮০-২০০ নারীকে দাঁড়াতে দেখা গেছে। আরেকটি লাইনে পুরুষের সংখ্যা ছিল দেড় শতাধিক।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক ব্যাক্তি জানান, কেউ কেউ সকাল সাতটা-আটটায় এসেছেন। এরপর থেকে ওএমএসের পণ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত ওই স্থানে ট্রাক পৌঁছায় সকাল সাড়ে নয়টার পর। বেলা পৌনে ১১টায় মন্ত্রী গিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধনের পর আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হয়।

সেখান থেকে চাল ও আটা কেনেন আজিমপুরের বাসিন্দা লুৎফর নাহার। তিনি বলেন, বাজার থেকে ৫ কেজি চাল আর ২ কেজি আটা কিনতে কমপক্ষে ৩০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এখান থেকে কেনার ফলে ১৮০ টাকার মতো সাশ্রয় হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫৪-৫৫ টাকা এবং খোলা আটা প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৫ টাকা আর প্যাকেট আটা ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, দেশে ওএমএসের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২০ লাখ টন চাল মজুত আছে। প্রতি মাসে তিন লাখ টন চাল বিতরণ করা হবে। সামনে সরকার আরও কিছু চাল ও গম আমদানি করবে। সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চাল কিনতে পারবেন। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে চাল নিয়ে চালবাজি করতে দেওয়া হবে না। কাউকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে দেওয়া হবে না। চালের বাজার নিয়মিত তদারক করা হচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগরে ৫০টি কেন্দ্রে ট্রাক সেলের মাধ্যমে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন বা ৩ হাজার ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরের আরও ১৪৭টি দোকানে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানে বরাদ্দ রয়েছে ২ মেট্রিক টন।

আনন্দবাজার/শহক

সংবাদটি শেয়ার করুন