পিংক ক্যাশিয়া জাভানিকা গাছে কয়েক প্রজাতির পাখি গত মাস ধরে নিয়মিত গান গাওয়া শুরু করেছে। হলদে পাখি, মৌটুসি, নীলগলা বসন্ত, হরবোলা, কোকিলসহ কয়েক প্রজাতি। রোদ আর ছায়া পেয়ে তাদের মনে প্রেম ও ভালোবাসার জোয়ার বইছে। ওদের এক ডাল থেকে পাশের ডালে এমন ছোটাছুটি ও দুষ্টুমি দেখা মেলে ক্যাশিয়া জাভানিকা ফুলে ফুলে। এমনটা নজরকড়া ফুল ফুটেছে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে। পিংক ক্যাশিয়া জাভানিকা বা লাল সোনাইল নামে পরিচিত। শহরে এ একটি গাছ। পিংক ক্যাশিয়া জাভানিকা বা লাল সোনাইল এক নজর দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমায় গাছের নিচে।
গিয়ে দেখা যায়, যেন একটি ছাতা ধরে রাখা হয়েছে। গাছের চারপাশে গোল করে ডাল মেলে আছে। ডালে ওপর ফুটে ফুল। এপ্রিল-মে মাসে ফুল ফোটে।
গাছটি রোপন করেন খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। তিনি জানান, ক্যাশিয়া জাভানিকা বা লাল সোনাইল ফুলটি দেখতে রাজকীয়। খুবই প্রভাব বিস্তারকারী একটি ফুল। ২০১৮ সালে রোপন করি। দুই বছর ধরে ফুল ফুটছে। অফিসের সামনে বা বাড়ির সামনে লাগালে পারপাশ রঙিন করে দেয়। অনেকে দেখতে আসে।
ফুল দেখতে আসা চাইথৈয়াই মারমা বলেন, ফুল দেখতে দারুণ বলার অপেক্ষা রাখে না। ইঞ্জিনিয়ার সবুজ চাকমা তার অফিসের সামনে ফুটে থাকা ফুল দেখতে এসছি। গোলাপি রঙের রং ফুল দেখতে অনেক সুন্দর। এখান থেকে দেখে শহরের অনেকে লাগাচ্ছেন।

ফুল প্রেমী রনেল চাকমা বলেন, ফুটেছে মায়াবী এক ফুল। যতবারই দেখি মন ভওে না। তার সৌন্দর্য, অপরুপ রং বারবার কাছে টেনে নিয়ে যায়। এমন মায়াবী ফুলের সঙ্গ জীবনকে এমন এক ভালো লাগার অনুভুতি দেবে এ ফুল।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, লাল শোনাইল বাংলা নাম। প্রথমেই ফুলের রং পিংক রঙের হয়। শেষের দিকে দিন দিন রং সাদা হয়ে আসে। এটায় ফুলের বৈশিষ্ট্র। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সামনে পরিকল্পনামাপিক ভাবে লাগানো হয় তাহলে অফিসের দৃশ্যটা বদলে যাবে। সারা পৃথিবীতে শোভাবর্ধন বৃক্ষের অনেক কদর আছে। সবদেশের শহরগুলোতে বিভিন্ন রঙের ফুল গাছ লাগিয়ে সাজিয়েছে। আমাদের দেশে এটা প্রচলন করা দরকার। আমাদের দেশে খুবই উপযোগি একটা বৃক্ষ।
সবুজ চাকমা বলেন, চার বছর চলতেছে। গত দুই বছর ধরে ফুল ফুটছে। পরিচর্যা করলে ভালো ফুল ফোটে। তবে সারাদিন যেন রোদ পাই এমন জায়গায় লাগালে ভালো ফুল ফুটবে।
প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক সৌরভ মাহমুদ বলেন, ক্যাশিয়া জাভানিকা বা লাল সোনাইল শোভাবর্ধনকারী ফুল হিসেবে বাগান, পার্কে এবং সড়কের দুই পাশে মানায়। ফুলের আকর্ষনীয় রং এবং ভু-স্পর্ষি শাখা-প্রশাখার বিন্যাস পথিকের নজর কারে। তিনি বলেন, বাড়ির প্রান্তে যেখানে রোদেও অলো পড়ে সেখানে লাগাতে হবে। আমাদের বিশেষ করে উদ্যানে দুই একটি লাল সোনাইল থাকতে পারে। হতে পারে সারি সারি কোন সড়কে। বাড়ির আঙিনা সড়কের দুই পাশে শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে খুবই মাননসাই গাছ। ডালের এমন ঘন ফুল আকর্ষণীয়।
আনন্দবাজার/শহক
