শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সয়াবিনের ধাক্কা নিত্যপণ্যে

সয়াবিনের ধাক্কা নিত্যপণ্যে
  • উৎসবে বিদেশে দাম বাড়লে পণ্য বর্জন

ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের দাম হয়ে ওঠে অতি চড়া। বিক্রেতারা সুযোগ বুঝে নানা অজুহাতে দাম চড়াও করে। তবে এটা কেবল বাংলাদেশেই দেখা যায়। েবিশ্বের অন্যান্য দেশে এই চিত্র নেই। প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতে কোন নিত্যপণ্যের দাম চড়াও হলে সেখানে সেই পণ্যের বর্জন দেখা যায়। এতে সুবিধাভোগিরা সুবিধা নিতে পারে না। ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়া-কমা স্বাভাবিক নিয়মে হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের তার উল্টোতে রয়েছে। দাম বাড়াল দেখা ওই পণ্যের ওপরে জনগণ হুমড়ি খেয়ে পড়ে।     

দেশে প্রতিবছরেই ঈদের আগে বেসামাল হয়ে পড়ে নিত্যপণ্যের বাজার। এতে করে  চাল, ডাল, তেল, আটা, ময়দার, রসুন, পেঁয়াজসহ মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ে। অনেক সময় বিভিন্ন চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারেও সেই রকম হয়েছে। এবারে সয়াবিন ছিল অন্য সব বারের চেয়ে অনেক বেশি। লিটার ১৮০ টাকার ঘরে চলে গেছে। যা রেকর্ড। কয়েকদিনে ব্যবধানে এবার খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ৩০ টাকার বেশি।

তবে সয়াবিনের দামে ধাক্কায় অন্য পণ্যের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে ঈদকে কেন্দ্র করে ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। গরুর মাংসের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। ফলে ৭০০ টাকার নিচে এখন গরুর মাংসের কেজি পাওয়া যাচ্ছে না। এসব দাম বাড়া প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে রাজধানীর অভিজাত মলগুলো।

আরও পড়ুনঃ  ইউরোপের পর পুড়ছে আমেরিকা

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় চার শতাংশ। সরু চালের দাম বেড়েছে দুই শতাংশ। বাজারের অধিকাংশ দোকানে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা অনেক দোকান ঘুরে তারপর সয়াবিন পাচ্ছেন। সয়াবিনের সংকটের চিত্র উঠে এসেছে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্যেই।

সংস্থাটি বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিনের দাম বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি। গত সপ্তাহে যে সয়াবিনের (খোলা) লিটার ছিল ১৫৫ টাকা, এই সপ্তাহে সেই সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৮৪ টাকা লিটার। টিসিবির হিসাবে খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ ১৪৫ টাকা লিটার খোলা পাম অয়েলের দাম এখন ১৬৫ টাকা। পাম সুপারের দাম বেড়েছে লিটারে ২২ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া ১৫০ টাকা লিটার পাম অয়েলের দাম এখন ১৭২ টাকা।

অস্বাভাবিক দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে রসুন। গত সপ্তাহের ৬০ টাকা কেজি দেশি রসুন এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৮ টাকায় পাওয়া যেতো, এই সপ্তাহে দাম বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা। ১০০ টাকা কেজি আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি হলুদের দাম বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া ৪০০ টাকা কেজি দারুচিনির দাম বেড়ে হয়েছে ৪৩০ টাকা। কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  আজকের দৈনিক আনন্দবাজার (১১/০৯/২৩)

ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে যে ময়দা কেজি ছিল ৫০ টাকা, এই সপ্তাহে সেই ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। ঈদের আগে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। অপরিবর্তিত রয়েছে পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম। গরুর মাংসে কেজিতে বিক্রি করছেন ৭০০ টাকা থেকে ৭১০ টাকা। অনেকে গরুর মাংস বিক্রি করছেন ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে গরুর মাংসের কেজি ছিল ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। পটলের কেজি ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাজার ভেদে দাম কম-বেশি হতে পারে।

লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকা (সাইজের ওপরে দাম কমবেশি রয়েছে)। লাল শাকের আঁটি ১০ টাকা, পালংশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে  ১০ টাকা। সজনের ডাটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। বাজার ভেদে দাম কম-বেশি হতে পারে। রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৬০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন