শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অনলাইন ক্লাসে বাড়ছে পর্ণোগ্রাফি এবং গেমিং এর ঝুঁকি

মোঃ হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী

করোনাকালীন সময়ে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস। অনলাইন ক্লাসের কারনে আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সকলের হাতেই রয়েছে এনড্রইয়েড মোবাইল, বাসায় রয়েছে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ এবং পর্যাপ্ত নেট সুবিধা। অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী কৌতুহলবশত বিভিন্ন সাইটে ঢুকতে পারে সহজেই ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পর্ণোগ্রাফির ঝুঁকি। বিশ্বের অনেক দেশে পর্ণোগ্রাফি সাইটে প্রবেশ করতে হলে নানা ধাপ পার করতে হয় গ্রাহক বা ব্যবহারকারীকে কিন্তু বাংলাদেশের ইউটিউব থেকে শুরু করে যে কোন সাইটে কোন কিছু লিখে সার্চ করলে প্রথমেই চলে আসে পর্ণোগ্রাফি লিংক।

শুধু পর্ণোগ্রাফিই না ইউটিউবে হাজারো অশ্লিল ভিডিও আছে যা ভিউয়ের কারনে সার্চ দিলে সহজেই পাওয়া যায়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নতুন অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ায় তারা এখনো পুরোপুরি ব্যবহারবিধি রপ্ত করতে সক্ষম না হওয়ায় যে কোন সময় ভূলক্রমে অথবা কৌতুহলে এসকল ভিডিওতে আসক্ত হতে পারে। উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের যেসকল শিক্ষার্থীরা পূর্বে থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে তারা সবসময় পরিবারের বিশেষ নজরদারীতে থাকতো বা দিনের বিশেষ একটি সময় তা ব্যবহারের অনুমতি পেত কিন্তু বর্তমান সময়ে অনলাইনে ক্লাসের নাম করে শিক্ষার্থীরা বেশী সময় নেটে অবস্থান করলেও অভিভাবকরা কোন রকম আপত্তি করতে পারছেন না তাদের শিক্ষাজীবনের কথা চিন্তা করে। নি¤œমধ্যবিত্ত বা নি¤œবিত্ত শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে নেট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় তাদের কৌতুহল অনেক বেশী হচ্ছে ফলে তারা অনলাইনে ক্লাস করার পাশাপাশি কৌতুহলবশত বিভিন্ন সাইটে প্রবেশ করছে বা করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রয়োজন যথাযথ নীতি ও মহাপরিকল্পনা’

বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনলাইন গেমিং একটি জনপ্রিয় বিষয়। উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে অনলাইন গেমিংয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সকল শিক্ষার্থীরাই করোনাকালীন সময়ে ঘরে বসে বসে অনলাইন গেমিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। দীর্ঘ ৫ থেকে ৬ মাস যাবত দিনের অধিকাংশ সময় গেমিংয়ে সময় পার করা শিক্ষার্থীরা অনেকটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে ফলে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে তখন তাদেরকে এই গেমিংয়ের আসক্ত থেকে বের করে আনা অনেকটাই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়াবে। ইতোমধ্যে অনলাইন গেমিং দেখে অনেক শিক্ষার্থী নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার খবর আমরা সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে এবিষয়ের সমাধান বের করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। নেট থেকে পর্ণোসাইট বন্ধ করে দিতে হবে অথবা যাতে সহজে বা ভূল করে কেউ প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। অনলাইন গেমিং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ গেমগুলো বন্ধ রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অভিভাবকদেরকে সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে নিজের সন্তানের প্রতি। অনলাইন ক্লাসের বাইরে নেটে বসে আর কি কি কাজ করছে সে বিষয়ে নজর রাখার পাশাপাশি তাদেরকে নেটের সুফল এবং কুফল সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। সন্তানদেরকে বেশী বেশী করে সময় দিতে হবে যাতে তারা নেটের চেয়ে পরিবারের অন্য সকল সদস্যদের সাথে গল্প করে বা খেলাধুলা করে সময় কাটাতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ অনলাইন ক্লাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনোদনমূলক দশ পনের মিনিটের মজার মজার শিক্ষনীয় ভিডিও প্রচার করতে পারে। ক্লাসের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বিনোদন পেয়ে গেলে তারা ক্লাসের বাইরে বেশী সময় নেটে পার করবে না। ফলে পর্ণোগ্রাফি, অশ্লিল ভিডিও বা গেমিংয়ে তাদের আসক্ত হওয়ার সম্ভাবণা অনেকটা কমে যাবে বলে মনে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নেটে অবস্থান করার কারনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটার পাশাপাশি শারীরিক পবির্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্থুলতায় ভুগতে পারে বলে স্বাস্থ্যবিদরা মনে করছেন। আগামী প্রজন্মকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচাতে হলে তাদের নেট ব্যবহার সীমিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  উত্তাল একাত্তরের অশান্ত প্রহরগুলি

মোঃ হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী
সহকারী রেজিস্ট্রার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন