ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সমালোচনা না করারে ডাক্তারদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন

সাহেদুল ইসলাম

অনেকে খুব উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ডাক্তারদের গালমন্দ করছেন। আপনারা কি জানেন,করোনা যখন চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে ছড়িয়ে পড়েছিলো প্রথম সেই মরণব্যাধি ভাইরাসের কথা জানিয়েছিলো কে ?

তিনিও একজন ডাক্তার। তার নাম লি ওয়েনলিয়াং (Li Wenliang), তিনি চীন সরকারের নানা রকমের জুলুম অত্যাচার সহ্য করবেন জেনেও ঘটনাটা প্রকাশ করেছেন এমনকি নির্যাতিত হওয়ার পরেও তিনি করোনা চিকিৎসা দিতে গিয়ে মারা যান। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন সারা বিশ্বের ডাক্তাররা এবং তারা মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে আজ একদিনেই করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে ১১৬২ জন। আর মারা গেছেন ১৯ জন। এতো লোক আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী মানুষের খাম খেয়ালীপনা, তবুও আমরা কিছু মানুষ গায়ে পড়ে দোষ দিবো ডাক্তারের! আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ থেকে রোগ নির্ণয় পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করছে হাসপাতালে ডাক্তার থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী। আমরা তবুও আছি ডাক্তারের কিভাবে দোষ ধরা যাবে তার পিছে।

করোনা ঠেকাতে সামনের সারিতে থেকে দেশে দুইজন ডাক্তার মারা গেছেন, তারা হলেন, কর্নেল প্রফেসর ডাক্তার মনিরুজ্জামান এবং ডাক্তার মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন। বিভিন্ন পত্রিকায়, টিভির খবরে নিশ্চই আমরা জেনেছি , ডাক্তার মঈন উদ্দীন এবং প্রফেসর ডাক্তার মনিরুজ্জামান কেমন ডাক্তার ছিলেন! তাহলে আমরা কেনো সমান্য কিছুতেই ডাক্তারের দোষ খুঁজি ?

এদিকে, ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত বৈশ্বিক এ মহামারিতে সারা পৃথিবীতে ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৮১৪ জন সুস্থ হয়ে উঠলেও প্রাণ গেছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮ জনের।

আামদের দেশের ডাক্তাররা যেভাবে হোক আপনাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। পুরা বিশ্বে পিপিই এর সংকট তার মাঝেও তারা জীবনের পরোয়া না করে আপনাদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। কেনো আপনারা দুই একজন ডাক্তারের জন্য পুরো ডাক্তার সমাজকে গালাগালি করে উদ্ধার করেন?

ডাক্তাররা যে বাসায় থাকে বাড়ির মালিক তাদের বাসা থেকে বের করে দিচ্ছে। খরাপ ব্যবহার করছে। তাদের সহযোগিতা না থাকলে আপনি আমি এই মুহূর্তে একটা বিশাল শূন্য৷ যে বাড়ির মালিক ডাক্তারদের তাড়িয়ে দেয় বাসা থেকে সেই বাড়ির মালিকরে করোনা হলেও এই নির্যাতিত ডাক্তাররা এগিয়ে আসে। তবুও বাড়ির মালিকের বলছি, আপনারা ডাক্তারদের সাথে এসব ব্যবহার কেনো করেন?

ডাক্তাররা করোনার পরীক্ষামূলক প্রথম টিকাটির পরীক্ষা করছিলো জেনিফার হ্যালার নামক একজন মানুষের শরীরে। করোনা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য দিন রাত যারা গবেষণা কাজ করে যাচ্ছেন সেই গবেষকরাও কিন্তু ডাক্তার। ডাক্তারেরাই আমাকে-আাপনাকে এই অভিশাপ থেকে বাঁচাতে নিরলসভাবে দিন-রাত গবেষণা ল্যাবে গবেষণা করছে এর সমাধান খুঁজতে। তাহলে এই ডাক্তারকে কেনো দেন গালি?

আপনি আমি বাসায় বসে বসে করোনা রোগী কতজন, কিভাবে কি করা লাগবে, আমাদের এলাকায় কোন করোনা রোগী বেঁচে আছে, কোন রোগী মারা গেলো এসব খুব নিমিষেই আমরা টিভি দেখতে দেখতে খবর নিতে পারি। ডাক্তার নামের মানুষটার সেই সময় হয় না হাসপাতালের এই কেবিন থেকে সেই কেবিনে রোগীর সেবা দিতে দিতে!

আপনি আমি পরিবারের কতো নিকটে থাকি। কতো চিন্তা করি প্রিয় মানুষদের জন্য। ডাক্তারদের পেশা ডাক্তারি হলেও তারাও রক্ত মাংসের শরীরের মানুষ। তাদেরও আবেগ অনুভূতি থাকে কিন্তু তবুও তারা আমার আপনার সেবা দিতে এই করোনার বিরুদ্ধে লড়তে বাসা ছেড়ে দিন রাত হাসপাতালে করোনা রোগীর পিছে ছুটছে। তাহলে আমাদের কি তাদের মন্দ কথা বলা ঠিক?

এই মুহূর্তে ডাক্তারদের কাজের সমালোচনা বাদ দিয়ে আমাদের তাদের কাজে সহযোগিতা করা হিসেবে উৎসাহ দিতে হবে। তাহলে করোনা মহামারীর প্রভাব বিস্তার রোধ কিছুটা সম্ভব হবে। তারা যদি ক্ষীণ হয় আমাদেরও সেবা পাওয়ার কমে যাবে।

সাহেদুল ইসলাম
সাবেক ছাত্র, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন