ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিশোর অপরাধ দমনে পারিবারিক অনুশাসনের পাশাপাশি দরকার মূল হোতাদের দমন

সাহেদুল ইসলাম (পারভেজ)

সীতাকুণ্ডে কয়েকদিন আগে তুচ্ছ বিষয়কে নিয়ে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটলো। তারা উভয়েই ছিলো বয়সের দিক থেকে কিশোর, বয়স ১৮-২০ বছরের মধ্যে। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রীতিমতোই তার কবিতায় বলেছিলেন আঠারো বছর বয়সকে দমিয়ে রাখা যায় না। তারা কোন কোন বাধা বিপত্তি মানে না। সুকান্ত তাঁর কবিতায় আঠারো বছর বয়সকে অপার সম্ভাবনার চিত্র হিসেবে তুলে ধরেছিলেন৷ তার কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন কিশোরদের ভালো দিকগুলো, তাদের বিশ্ব জয়ের কথা কিন্তু আজকাল যেনো কিছু উঠতি বয়সী কিশোরদের খারাপ দিকগুলো থেকে দমানো কঠিন হচ্ছে।

সমাজের বাস্তব চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যাবে আঠারো বছর থেকে উপরের বয়সের কিশোর এবং তরুণদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে ব্যবহার করছে সমাজের কিছু হীনমন্য ব্যক্তিবর্গ। পুরো বাংলাদেশের চিত্রই প্রায় এমন। নেশা,চুরি,ডাকাতি এমন কোন কাজ নেই এসব কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত হচ্ছে না। কিশোরদের এই বয়সে থাকার কথা স্কুল,কলেজে আর তাদের আগ্রহ থাকবে জ্ঞান- বিজ্ঞান নিয়ে, এটাই হচ্ছে স্বাভাবিক ঘটনা কিন্তু তারা আজ সেই পথে হাটছে না।

একটা সময়, ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করতো আর বড়রাও ছোটদের ভালো উপদেশ দিতো এবং স্নেহ করতো কিন্তু এখন এমন দৃশ্য দেখতে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। ছোটরা এখন অনেক শ্রদ্ধাভাজনের ব্যবহারের উপকরণে পরিণত হয়েছে। তাই ছোটরাও বখে গেছে, তারাও এখন চিন্তায় মগ্ন। স্কুলের শিক্ষকরাও এখন আর তাদের কোন শাসন বারণ করতে পারেন না৷ কারণ ক্ষেত্র বিশেষ অনেক শিক্ষকে আমরা ছাত্রের হাতে লাঞ্চিত হতে শুনেছি। এসবের মূলে রয়েছে আমাদের মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং সমাজিক অবক্ষয়।

কিছু কিছু পরিবার কেন জানি ঘরে একজন গুণ্ডা থাকাকে প্রাধান্য দেন! কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তবে ঘৃণা তারে যেস তৃণসম দহে। ” অন্যায়কারী এবং অন্যায় সহ্যকারীকে করলে এখন ঘৃণায় দহন হতে দেখছি না। সবার আগে কিশোরদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে তাদের পরিবার থেকে৷ কারণ, পরিবার হচ্ছে নৈতিকতা, মূল্যবোধ শেখার মূল প্রতিষ্ঠান। পরিবারকে খেয়াল রাখতে হবে তার সন্তান কোথায় যায় কি করে৷ তাদের সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করে তাদের বোঝাতে হবে। অনেকেই সমাজ ব্যবস্থার দোষ দেন কিন্তু পরিবার যে সমাজের প্রথম স্তর তা ভেবে দেখেন না। গাছের মূল যত শক্ত হবে, গাছও ততো মজবুত হবে। তাই সবার আগে পারিবারিক অনুশাসন দরকার।

“পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা কর” কথাটায় শুধু পাপকে ঘৃণার করার উপর জোর দেওয়া হলেও আমি মনে করি পাপের জন্মদাতাদের আগে দমন করা বর্তমান সময়ে জরুরী প্রয়োজন। সঠিক সমাজ ব্যবস্থা গঠনে এখন এই উক্তিটাকে করতে হবে, ” পাপ এবং পাপীকে ঘৃণা কর। ” একসময় সমাজ পরিবর্তিত হলে না হয় শুধু পাপকে ঘৃণা করা যাবে।

মোদ্দা কথা, বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ দমনের জন্য আগে মূল থেকে পাপীদের ধ্বংস করতে হবে তারপর না হয় পাপকে সকলে মিলে ঘৃণা করবো। তবে, প্রতিটি পরিবারকে অবশ্যই তার সন্তানদের সুশিক্ষিত করতে হবে সুশিক্ষায়, তাদের সন্তানদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সুশাসন এবং নিজ নিজ ধর্মের অনুশাসন সম্পর্কে জানাতে হবে।

– সাবেক ছাত্র, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন