ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

না ফেরার দেশে ভাষাসৈনিক মির্জা মাজহারুল

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভাষাসৈনিক ও দেশের বিশিষ্ট শল্যচিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

জানা গেছে, আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টায় রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গেল ৩০ সেপ্টেম্বর বারডেমের আইসিইউতে ভর্তি হন প্রবীণ এই চিকিৎসক ও ভাষা সংগ্রামী।

১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার আগচারান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। সেই সাথে ভাষা আন্দোলনের প্রথম দুটি সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন (১৯৪৭-১৯৪৮) এবং প্রথম শহীদ মিনারের পরিকল্পনা ও নির্মাণে বিশেষ অবদান রাখেন (২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২)।

তিনি ১৯৫৪ সালে অনারারি হাউজ সার্জন হিসেবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হিসেবেও অনেকদিন দায়িত্ব পালন করেন।

ডা. মাজহারুল ১৯৯৩ সাল থেকে বারডেম সার্জারি বিভাগে মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি দুইবার বারডেমের  মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনারসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ২০ বছর। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অনারারি চিফ কনসালটেন্ট ছিলেন। তিনি এত বেশি সার্জারি করেছেন যা এই উপমহাদেশে একটি রেকর্ড।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার পর তিনি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় অসংখ্য আহত ভাষাকর্মীর অস্ত্রোপচার করেন। সেই জন্য নিজেকে ভাষা আন্দোলনের ‘আঁতুড় ঘরের’ সাক্ষী বলে দাবি করেন ডা. মাজহারুল। ২০১৮ সালে ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য একুশে পদক প্রদান করা হয় এই গুণীজনকে।

আজ বারডেম জেনারেল হাসপাতালে বাদ জোহর জানাজা হবে ডা. মাজহারুলের। রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হবেন তিনি।

আনন্দবাজার/এইচ এস কে

সংবাদটি শেয়ার করুন