ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই শিশুকে বাড়ি ফেরাতে মধ্যরাতে বসলো হাইকোর্ট

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কেএস নবীর দুই নাতিকে বাড়িতে ফিরিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ধানমণ্ডি থানার ওসিকে এই আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল শনিবার (০৩ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে রাতে বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ নির্দেশ দিয়েছেন।

পরে এ নির্দেশের ব্যাপারে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, রাত সাড়ে এগারোটার দিকে একাত্তর টিভির একাত্তর জার্নালে আমিও যুক্ত ছিলাম। সেখানে দু’টি শিশু নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ওই দু’টি বাচ্চা সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্রয়াত ব্যারিস্টার কে এস নবীর নাতি। যাদের বাবা কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। বর্তমানে তাদের চাচা তাদেরকে বাসায় ঢুকতে দিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া টকশোটি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি বিচারপতি আবু তাহের মো.সাইফুর রহমানের নজরে আসায় তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে তাৎক্ষণিক এ নির্দেশ দেন।

আদেশে ওই দুই শিশুকে তাদের বাসায় নিরাপদে রেখে আসতে ধানমণ্ডি থানার ওসিকে আদেশ দেন। তাছাড়া রবিবার সকাল ১০ টায় আদালতে এ ব্যাপারে প্রতিবেদনও দাখিল করতে বলা হয়েছে ধানমণ্ডি থানার ওসিকে।

জানা যায়, শিশু দুটির বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে কয়েক বছর পূর্বে। বাবার মৃত্যু হলে শিশু দুটি কিছুদিনের জন্য তার মায়ের আশ্রয়ে থাকতে যায়। মায়ের কাছ থেকে নিজ বাসায় ফেরার চেষ্টা করে ওই দুই শিশু। তবে তাদেরকে আর বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়নি তাদের চাচা। পরে কয়েকবার চেষ্টা করেও শিশু দুটি ওই বাসায় প্রবেশ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে ধানমণ্ডি থানাকে জানানো হয়। কিন্তু পুলিশের অনুরোধেও শিশুদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি তাদের চাচা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী রেহান নবী।

শিশু দুজনের ফুফু (কেএস নবীর বোনের মেয়ে) মেহরীন আহমেদ বলেছেন, বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ওদের বাবা-মা আলাদা থাকতেন। ওরা ওদের বাবার সাথেই দাদার বাড়িতে থাকতো। তবে ওদের বাবার মৃত্যুর পর শিশু দুটি খুব বেশি বিষণ্ন হয়ে পড়ে ও ওদের মায়ের কাছে কিছুদিন থেকে আবার বাড়িতে ফেরে। তবে তাদের জন্য বাসার গেট খোলা হয়নি। আমরা পরিবার থেকে যোগাযোগ করি। শিশুদের বড় চাচা কাজী রেহান নবীকে ফোন করি। তবে তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে ওদের পরে বাড়িতে আসতে বলেন। এরপর আমরা ধানমণ্ডি থানাকে বিষয়টি অবহিত করি। পুলিশ এসে তাকে (কাজী রেহান নবী) ফোন করে অনুরোধ করে। এরপর ধানমণ্ডি থানার ওসি (ইকরাম হোসেন মিয়া) আমাদেরকে পরেরদিন আসতে বলেন। কিন্তু শিশু দুটো দেখলো আগেরদিন তারা বাড়ির কম্পাউন্ডে ঢুকতে পারলেও পরেরদিন বাইরের গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো এমনকি ভেতরে কুকুর ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর আমরা আবার পুলিশকে জানাই। তবে পুলিশ বললো- আমরা কিছু করতে পারবো না, আপনারা কোর্টের আশ্রয় নেন।

তিনি আরও জানান, বাড়িটি এখনও কেএস নবীর নামে। সেদিক থেকে দেখলে ওই শিশু দুটিও ওই বাড়ির মালিক।

মেহরীন আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘শিশুদের বাবার মৃত্যুর পর তার ব্যাংক-ব্যালেন্স দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারই বড় ভাই রেহান নবী।’

এ ব্যাপারে ধানমণ্ডি থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, আমরা খুব সুন্দরভাবে দুই শিশুকে রাত দেড়টার দিকে তাদের বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসেছি।

ব্যারিস্টর কে এস নবী (কাজী শহীদুন নবী) ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। ২০১৮ সালের ৮ জুলাই তিনি মারা যান।

আনন্দবাজার/এফআইবি

সংবাদটি শেয়ার করুন