শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে মসজিদের সামনে নাচ, সমালোচনার ঝড় অনলাইনে

টাঙ্গাইলের সখিপুরে পলাশতলি বাজার মসজিদের সামনে চিত্রনায়িকা মুনমুনের নাচের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। উপজেলার পলাশতলী বাজারে মসজিদের সামনে কুরুচিপূর্ণ এ নাচের আসর বসানো হয়। ইতিমধ্যে তার নাচের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে পুরো আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ধিক্কার জানিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন অনেকেই।

ঘটনার প্রতিবাদে সখিপুর উপজেলা আলেম ওলামা পরিষদ মসজিদের সামনে অশ্লীল নৃত্যের প্রতিবাদে মানবন্ধন করবেন এমন সংবাদ পেয়ে নগ্ন নৃত্যের আয়োজকরা আলেম ওলামা পরিষদের নিকট ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘৃণ্য কাজ করবে না বলে তওবা করে। তওবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আলেম ওলামা পরিষদের সভাপতি সখিপুর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইফুল্লাহ বেলালী। একই সাথে দুঃখ প্রকাশ, ক্ষমা ও বিভ্রান্তি না ছড়ানোর অনুরোধ করে কারো নাম উল্লেখ না করে ভ্রমণ আয়োজক ব্যানারে গত সোমবার স্থানীয় একটি অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার চিত্রনায়িকা মুনমুনকে সখিপুর পৌর এলাকার স্থানীয় কিছু লোক উপজেলার পলাশতলীতে নৌকা ভ্রমণে নিয়ে যায়। ভ্রমণ শেষে ওই বাজার মসজিদের সামনে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে নায়িকা মুনমুনকে নিয়ে বসানো হয় নাচের আসর। উপস্থিত অনেকেই সেখান থেকে ফেসবুক লাইভ চালান, আবার অনেকেই সেই নাচের দৃশ্য ভিডিও করে নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। পরে সেই নাচের ভিডিও ফেসবুকে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

এলাকাবাসী বলছেন, মসজিদ একটি পবিত্র স্থাপনা। আর মসজিদের সামনে এমন কুরুচিপূর্ণ নাচ কোন ভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাস লাইনে আগুন, ঝুঁকিতে শিল্পকারখানা

এ বিষয়ে কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ জানান, বহিরাগতরা নৌকা ভ্রমণে এসে এ ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এদিকে চিত্রনায়িকা মুনমুন সাংবাদিকদের বলেন, নৌকা ভ্রমণের মাঝপথে আমরা এক জায়গায় সবাই খাওয়ার জন্য মিলিত হই। ওই জায়গাটা ছিল পরিত্যক্ত। সেখানে খাওয়া শেষে আসরের পর অনেকের রিকোয়েস্টে সামান্য আমাকে নাচতে হয়। তবে মসজিদ লেখা সাইনবোর্ডটি আমি দেখিনি। যদি দেখতাম তাহলে ওখানে নাচ তো দূরের কথা বসে আড্ডাও দিতাম না। কারণ আমিও মুসলিম। আর আমি আমার ধর্মকে পালন করি।

আনন্দবাজার/এইচ এস কে/ কে এইচ

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন