শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে বাঘ আতঙ্কে সহস্রাধিক গ্রামবাসী

পঞ্চগড়ে গত এক মাস ধরে বাঘ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে চার গ্রামের সহস্রাধিক গ্রামবাসী। বাঘের আনাগোনা নিজ চোখে দেখছেন গ্রামবাসীদের কেউ কেউ। বাঘের কামড়ে গৃহপালিত গরু মারা গেছে এমন ঘটনাও ঘটেছে ওই এলাকায়। কয়েকটি ছাগল ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে গত একমাস পূর্বে। বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে সেই গ্রামগুলোর ধান ক্ষেত সহ বিভিন্ন জায়গায়। ইতিমধ্যে বাঘ ধরতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অধীনে ঢাকা থেকে প্রশিক্ষিত কর্মীদের একটি দল কাজ করছে সেই এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের মুহুরিজোত, সাহেবীজোত ও তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের উষাপাড়া ও বাদিয়াগছ গ্রামে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেখানকার চার একর জমিতে পুরোনো চা বাগানের চার পাশেই বাঘ দেখার আশায় জেলার বিভিন্ন এলাকা হতে ছুটে গিয়ে ভীড় করেছে হাজার-হাজার উৎসুক জনতা।

গ্রামবাসীদের দাবী জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বনবিভাগ অথবা সরকারের অন্য কোন সংস্থা যদি বাঘ উদ্ধারের তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা না নেয় তাহলে সড়ক অবরোধের ঘোষনা দিয়েছেন তারা। এ ঘটনার খবর শুনে সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে চারটি গ্রামে বুধবার রাতে সচেতনতামুলক মাইকিং করা হয়।

দেবনগড় ইউনিয়নের উষাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম জানায়, বুধবার বিকেলে আমি আমার গরুটিকে নিয়ে চা বাগানের পাশেই ঘাস খাওয়াচ্ছিলাম। এ সময় হঠাৎ বাঘ আমার গরুর গলায় কামড়ে ধরে হত্যা করেছে। আমি নিজেই চা বাগানে চিতা বাঘকে দেখেছি এবং সে সময় আমার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। চা বাগানের ভিতরে আমি বাঘটিকে দেখেছি বাঘটি আমার দিকে তেড়ে আসতে চেষ্টা করেছিল তবে চা বাগানের ডালের কারনে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

আরও পড়ুনঃ  মেঘনায় বিপুল কারেন্ট জাল জব্দ

সাহেবীজোত গ্রামের হাজিব উদ্দিন নামের একজন জানায় বর্তমানে আমরা এক হাজার পরিবার বাঘ আতঙ্কে রয়েছি। গত এক মাস হতে আমরা দশমাইল পাকা রাস্তা পার হওয়ার সময় বাঘের আনাগোনা দেখেছি। প্রশাসন যদি বাঘ ধরতে না পারে তাহলে আজ থেকে আমার রাতে পরিবার নিয়ে ঘুমাতে পারবোনা।

মুহুরীজোতা গ্রামের রুবেল রানা জানায় এই পুরোনো চা বাগানটিতে যদি বাঘ রয়েছে আমরা আতঙ্কে আর রাতে ঘুমাতে পারিনা । এজন্য এই পুরোনো চা বাগান কেটে ফেলে বাঘ ধরার অনুরোধ করছি প্রশাসনের প্রতি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক শাহীনুজ্জামান এর নেতৃত্বে উৎসুক জনতার ভীড় সামলাতে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে সচেতন করার কাজ করছে ওই এলাকায়।

এদিকে ঘটনার খবর শুনে বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সাথে উৎসুক জনতার ভীড় কমাতে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশকে বলেছেন।

এ সময় তিনি জানান, গত কয়েকদিন আগে থেকে আমরা শুনতেছি যে এই এলাকায় বাঘের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী এবং গরুকে হত্যা করার মালিক ও বাঘের পায়ের ছাপ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে পুরোনা চা বাগানটিতে বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে। জেলা প্রশাসক এ বিষয়টি সার্বক্ষনিক তদারকি করছে। আমরা বন বিভাগের সমন্বয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো বাঘটিকে উদ্ধারের জন্য। তবে এলাকাবাসীদের অনুরোধ করছি, এখানে যাতে কোন ভীড় না করে এবং বাড়িতে থাকার অনুরোধ করছি গ্রামবাসীকে। ইউপি চেয়ারম্যান তার গ্রাম পুলিশদের নিয়েও কাজ করবে। বন বিভাগ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের কর্ম পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকার যে সকল এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত

আনন্দবাজার/শাহী/রায়হান

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন