মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জের সাইফুলকে হুইল চেয়ার দিলেন ইউএনও

একটা হুইল চেয়ারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকা সাইফুল হুইল চেয়ারে বসেই মুখ ভরা হাসি নিয়ে বলে উঠল ‘খুব ভাল লাগছে বাবাজি’। তার অনুভুতি প্রকাশের মধ্য কোন চাতুরতা ছিল না, ছিল না কোন ভনিতা, ঠোটের কোনে হাসি নিয়েই দাতার জন্য দোয়া করতে ছিলেন তিনি। পাশেই তখন দাড়িয়ে ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্ত্রী। যিনি জন্মগত অন্ধ।

জানা গেছে, সাইফুল ইসলামের বাড়ি রায়গঞ্জের আটঘরিয়া গ্রামে। জন্মগত ভাবেই সে প্রতিবন্ধী। হাত পা থাকলেও সেটা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ছোট এবং চিকন। একজন অতি সাধারণ মানুষ তিনি। অভাব অনটনে চলে পরিবার। দীর্ঘ অভাবের বেড়াজালে আটকে গেছে তার জীবন -তার পরিবার। অসহায় জীবনযাপন করা সাইফুলের পাশে এর আগে এগিয়ে আসেনি কেউ। তবে গ্রামবাসি স্থানীয় একটা মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব দেয়ায় কোনমতে চলছে সংসার। চলাচলের জন্য লৌহার রট দিয়ে বানানো লাঠির উপর ভর দিয়ে একটু একটু করে হাটা চলা করতেন তিনি। আর সেই লাঠিটাই ছিল তার চলার সঙ্গী।

সাইফুল ইসলামের জন্য হুইল চেয়ারের সহযোগিতা চেয়ে দৈনিক যায়যায়দিনের রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহ সরকার সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ছবি সহ আবেদনমূলক পোস্ট করেন। পোস্টটি তাৎক্ষণিক কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহেল মারুফ এর নজরে আসেন। ফোনেই পোষ্ট দাতাকে চেয়ার দেয়ার কথা জানিয়ে দেন তিনি।

পরে ঐ প্রতিনিধি একটা উন্নত মানের চেয়ার ক্রয় করে গতকাল প্রতিবন্ধী সাইফুলের হাতে তুলে দেন। সেই সঙ্গে কিছু নগদ টাকাও দেয়া হয় ঐ পরিবারের হাতে।

আরও পড়ুনঃ  পর্যটন শহর কক্সবাজারকে অবরুদ্ধ ঘোষণা

এ প্রসঙ্গে ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল মারুফ বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমার জায়গা থেকে আমি কিছুই হয়ত করতে পারিনি,তবে ঐ পরিবারের কথা আমার মনে থাকবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক এম আবদুল্লাহ সরকার, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল আমিন সরকার, সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ ফরহাদ, সাংবাদিক পাপ্পু প্রমুখ।

আনন্দবাজার/ইচ এস কে/এস ই এ

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন