শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়িতে প্রস্তুত হচ্ছে করোনার বিশেষায়িত হাসপাতাল

বাংলাদেশে করোনার বিস্তার রোধ যেন কোন ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছেনা, দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে ফটিকছড়ি জনগণের সু-চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে করােনা আক্রান্ত রােগীদের জন্য ফটিকছড়ি পৌরসভাস্থ ২০ শয্যা হাসপাতালটিকে কোভিড-১৯ বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (বিটিএফ) চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম -২(ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

তিনি বলেন, করােনা আক্রান্ত রােগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলােতে শয্যা সংকট রয়েছে। ফলে কৱােন আক্রান্ত রােগীদের সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম জেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। করোনা আক্রান্ত রােগীদের সু-চিকিৎসার জন্য কোন কোভিড-১৯ বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই । এমতাবস্থায়, ফটিকছড়ি জনগণের সু-চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে করােনা আক্রান্ত রােগীদের জন্য ফটিকছড়ি পৌরসভাস্থ ২০ শয্যা হাসপাতালটিকে কোভিড -১৯ বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সকলের সহযােগিতায় আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) হতে ২০ শয্যা হাসপাতালকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ শুরু করছি। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মােঃ সায়েদুল আরেফিন সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন। তাকে সহযােগিতা করবেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হােসইন মােঃ আবু তৈয়ব, ফটিকছড়ি পৌরসভা মেয়র মােঃ ইসমাইল হােসেন , উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মােঃ ইলিয়াছ চৌধুরী এবং উপজেলা প্রকৌশলী এস,এম, হেদায়েত এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতােমধ্যে সকলকে নির্দেশ দিয়েছি ।

তিনি বলেন, ২০ শয্যা হাসপাতালটি সরকারিভাবে বন্ধ রয়েছে এবং এর জন্য কোন সরকারি বরাদ্দ নেই । ফটিকছড়ি জনগণের স্বাস্থ্য সেবার কথা বিবেচনা করে স্থানীয়ভাবে হাসপাতালটি সীমিত আকারে চলমান রয়েছে। হাসপাতালটি দীর্ঘকাল যাবৎ বন্ধ থাকায় এবং হাসপাতালটির বিভিন্ন কক্ষ অব্যবহৃত থাকার কারণে বেশীরভাগ কম ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এটিকে ব্যবহারের উপযােগী করার জন্য ব্যাপক সংস্কার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা প্রয়ােজন। আমার ব্যক্তিগত পক্ষ হতে এবং সরকারিভাবে যতটুকু সম্ভব এর সংস্কারের এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু এটিকে কোভিড -১৯ হাসপাতালে রূপান্তরের জন্য অনেক অর্থের প্রয়ােজন। এ বিষয়ে আমি ফটিকছড়ির বিত্তবান লােকদের সহযােগিতার জন্য এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানাচ্ছি। কেউ যদি অনুদান প্রদানে ইচ্ছুক হন তবে উপজেলা প্রশাসনের আপদকালীন তহবিলে অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অনুদান প্রদানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। সারা দেশের মত ফটিকছড়ি উপজেলাতেও করােনা ডাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে সরকারি নির্দেশনা মােতাবেক সকল কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায়, আপনার এবং আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে আপনাকে আরাে বেশী স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। দয়া করে কেউ মাস্ক ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না। যদি কেউ সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ না করে চলাচল করেন এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিচ্ছি। ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন।আল্লাহ আমাদের সকলকে সুস্থ রাখুন।

আরও পড়ুনঃ  রান্না করার চুলা ডুবে গেছে

আনন্দবাজার/এফআইবি

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন