বৃহস্পতিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভূরুঙ্গামারীতে ব্রীজের অভাবে ভুগছে চারটি গ্রামের বাসিন্দারা

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের সড়ককাটা এলাকার পশ্চিমে ফুলকুমার নদের উপর একটি ব্রীজের অভাবে কষ্টে আছেন চার গ্রামের দশ সহস্রাধিক মানুষ। নিজেদের তৈরি বাঁশের সেতু পার হয়ে অথবা নৌকায় চলাচল করতে হয় এসব গ্রামের বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার সংযোগ স্থল জয়মনিরহাট ইউনিয়নের শিংঝাড় গ্রামের বুক চিরে বেড়িয়ে গেছে ফুলকুমার নদটি। সড়ককাটা অংশে রয়েছে ঢাকা-ভূরুঙ্গামারী মহাসড়ক। অন্য পাড়ে গড়ে উঠেছে শিংঝাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজমাতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজমাতা উচ্চ বিদ্যালয়, শিংঝাড় দাখিল মাদ্রাসা এবং বিজিবি’র সীমান্ত ফাঁড়ীর মত গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান গুলিতে প্রতিদিন যাতায়াত করে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক শ্রমজীবি সাধারণ মানুষ এবং সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি’র সদস্যরা।

গ্রামবাসী নিজেদের প্রয়োজনেই প্রায় প্রতি বছর স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে নির্মান করে বাঁশের জাকলা কিন্তু সেই জাকলা দুই বছরের বেশি টেকসই না হওয়ায় কষ্টের সীমা থাকে না তাদের । নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে খরচ হয় দ্বিগুন।

পূর্ব পাড়ের শাহজাহান আলী খন্দকার, মোসলেম উদ্দিন, দুলাল হোসেন, আঃ মালেক ওমর আলী জানান, গত বছর দাতাদের বাঁশ এবং গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমের পরেও খরচ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ টাকা।

পশ্চিম পাড়ের সাবেক সেনা সদস্য জমসের আলী মন্ডল, আলহাজ আশরাফ আলী, রমিজ উদ্দিন জানান স্বাধীনতার পর থেকে আদ্যবধি এই বাঁশের জাকলা দেখতে এসে ব্রীজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন বহু এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান। নির্বাচন পেরিয়ে গেলেই হারিয়ে যায় সব এজেন্ডা, ভুলে যান সকল নির্বাচনী ইশতিহারের কথা।

আরও পড়ুনঃ  বিরামপুরে নদী ভাঙ্গনের কবলে দিশেহারা মুন্সীপাড়ার বাসিন্দারা

এপারে খামার আন্ধারীঝাড়, আই কুমারী ভাতি ওপারে শিংঝাড়, আজমাতা মাঝখানে ফুলকুমার নদ- সংযোগহীনতার ইতিহাসকে স্বাক্ষী রেখে একটি ব্রীজের দাবিতে যে কোন ধরণের ত্যাগ স্বীকারে রাজী কৃষি প্রধান এ এলাকার মানুষ।

জয়মনিরহাট ইউপির চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, ইতিপূর্বে এই ঘাটে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এতে কোন ফল না পাওয়ায় আবারো আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করবো।

আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস/এম আর

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন