মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনাযোদ্ধা খোরশেদের স্ত্রী শ্বাসকষ্ট নিয়ে জীবন সংকটে, আইসিইউ খালি নেই

প্রানঘাতী করোনায় জীবনবাজি রেখে একের পর এক ৬১ লাশ দাফন করে যিনি অসহায় মানুষের সংকট কাটানোর চেষ্টা করেছেন, দেশে-বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের সেই মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের স্ত্রীর জীবন আশঙ্কাজনক। তিনি নিজেও আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন মরনব্যাধি করোনায়। এখন পুরো পরিবার নিয়েই সংকটে পড়ে গেছেন খোরশেদ।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে তার করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর ফেসবুক লাইভে এসে জানান কাউন্সিলর খোরশেদ। এর আগেই গত ২৩ মে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন তার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা। এ কয়েকদিন স্থিতিশীল থাকলেও শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় লুনার। এক পর্যায়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে কাঁচপুরের সাজেদা ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে খোরশেদ জানান, আমি নিজেই সাজেদা ফাউন্ডেশনে যাচ্ছি। আমার স্ত্রীর জ্বর, ঠাণ্ডা, গলাব্যাথাসহ করোনার বেশ কয়েকটি উপসর্গ আছে। এখনো তেমনভাবে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়নি, তবে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এছাড়া সে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আইসিইউ-র জন্য অনুরোধ করেছি, তারা সকালে দেবে বলেছে। একটি আইসিইউ হলে হয়তো আমার স্ত্রীর শ্বাস নেওয়াটা স্বাভাবিকভাবে চলতো। করোনা আক্রান্তদের জন্য কাজ করতে গিয়ে শেষমেশ নিজেরা আক্রান্ত। সবার কাছে দোয়া চাই।

করোনার শুরু থেকেই খোরশেদ নিজ উদ্যোগেই তার ওয়ার্ডের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে হাত মানুষের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্কট হওয়ার পর নিজেই হাজার হাজার বোতল স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ করেন। ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেন। এসবের বাইরেও করোনায় আক্রান্তদের দাফন ও সৎকার কাজে অংশ নিয়ে আসছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  শুরু হচ্ছে ঢাকা থেকে সিকিমে বাস চলাচল

উল্লেখ্য, করোনা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে এলাকায় এলাকায়, সড়কে সড়কে, মানুষের ঘরে ঘরে জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন খোরশেদ। যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে এখনও জীবাণুনাশক স্প্রে করা অব্যাহত রেখেছেন। মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত প্রতি এলাকায় মাইকিং করাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে টিম গঠন করে এলাকায় এলাকায় আড্ডা বন্ধ করতে মানুষজনকে অনুরোধ করছেন। শুধু তাই নয়, তার ওয়ার্ডবাসীর স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে চালু করেছেন টেলি মেডিসিন সেবা। করোনা থেকে সেরে ওঠাদের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহের কাজও শুরু করেছেন।

আনন্দবাজার/শাহী

Print Friendly, PDF & Email

সংবাদটি শেয়ার করুন