বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঠিক আগ মুহূর্তে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন মোঃ সাইদুল ইসলাম৷ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সোনারগাঁয়ের মানুষের নানাবিধ সমস্যার সমাধান এবং বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা মোকাবিলায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রীতিমতো মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে ভূষিত হয়েছেন৷
এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের ন্যায় সোনারগাঁয়ের কৃষি খাতে কৃষকদের সহায়তায় সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বুধাবার (২২ এপ্রিল) একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের উপজেলা প্রশাসন, সোনারগাঁ এর অফিশিয়াল পেইজে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইদুল ইসলামের পরিকল্পনার পুরোটাই হুবুহু তুলে ধরা হলো:
আপনি জানেন কি? আপনার হাতের দামী মুঠোফোন, ফসিল ব্যান্ডের ঘড়ি,ফ্ল্যাট টিভি,এয়ারকন্ডিশনার,ফ্রিজ, থ্রিডি ফ্লোর টাইলস, ফোরজি কানেকশান, সার্বক্ষণিক ওয়াইফাই এসব মোটেও জীবনের জন্য অত্যাবশকীয় কিছু নয়। মানুষের জীবনের জন্য অত্যাবশকীয় হলো শুধুই দু’বেলা দু’মুঠো খাবার।
ইতিহাস সাক্ষী আছে শুধু পঞ্চাশের মন্বন্তরে তৎকালীন ভারতে দুর্ভিক্ষে মারা গেছে ৩.৫ মিলিয়ন মানুষ। বিংশ শতাব্দীতেও সারা পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষে না খেয়ে মারা গেছে ৭০ লক্ষ মানুষ। আপনি কি জানেন করোনা ভাইরাসের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা যদি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে না পারি ১৮ কোটির এই বাংলাদেশে আমরা নিশ্চিত ভাবেই একটি দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে চলেছি! এসব রাষ্ট্রীয় বড় ব্যাপার। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। আমরা শুধু সোনারগাঁ নিয়ে ভাবতে চাই।
প্রিয় সোনারগাঁবাসী, আপনি কি জানেন করোনা ভাইরাসের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা কোন কৃষি শ্রমিক পাচ্ছেন না। কারন অন্যান্য বছর বাইরের জেলা থেকে অনেক মৌসুমি শ্রমিক আসলেও এ বছর কেউ নারায়ণগঞ্জ এ আসতে চাচ্ছেন না। এর ফলে বিপুল পরিমাণ ধান জমিতেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে! আমি দু’একজন কৃষক ভাইয়ের হাহাকার দেখে সত্যি ব্যথিত হয়েছি। প্রতি বছর আমাদের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলান যে কৃষক, এ বছর তাদের জন্য কি আমাদের কিছুই করণীয় নেই? আমরা কি পারি না তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে??
হুম আপনাকেই বলছি-
আগামী সপ্তাহে পুরোদমে শুধু হবে ধানকাটা। আমাদের প্ল্যানটা খুব সহজ-
১। ১০টি ইউনিয়ন (৯০ টি ওয়ার্ড) প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক টীম গঠন করা হবে। প্রতিটি টিমে ৪০/৫০ জন করে থাকবে। যারা প্রান্তিক চাষিদের ধান কেটে দেবে। আমি নিজেও তাদের সাথে ধান কাটবো।
২। উপজেলায় একটি মনিটরিং টিম থাকবে। সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী ভাইয়েরা এই মনিটরিং টিমে থাকতে পারেন এবং ওয়ার্ড টিম গঠনে সহায়তা করতে পারেন। ধান কাটায় অংশ নিতে পারেন।
৩। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পুরো কাজটি করা হবে।
৪। অংশগ্রহনকারীদের উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে মাস্ক সরবরাহ করা হবে এবং পুরো কাজ শেষে এপ্রিসিয়েশন লেটার দেয়া হবে।
আপনি ঘরের ভেতর হাত গুটিয়ে বসে না থেকে সপ্তাহে ২/৩ ঘন্টা করে আমাদের সাথে এই মহৎ ও মহান কর্মযজ্ঞে অংশ নিন। জাতির এই ক্লান্তি লগ্নে আপনার সক্রিয় অবদানও অবিস্মরণীয় হয়ে থাকুক।
আপনি ও আপনার বন্ধুগন নাম ঠিকানা সকাল ৯:০০ বিকেল ৫:০০ পর্যন্ত আমাদেরকে ফোন অথবা এসএমএস করে জানান।
০১৬৭৮৬৯১০৩১, ০১৮১৩০২৫৩৮৮ এই নাম্বারে।
আসুন আপনি আমি আমরা সবাই মিলে আমাদের সোনারগাঁকে একটি সত্যিকারের সোনারগাঁয়ে পরিণত করি।
আনন্দবাজাড়/শাহী




