সপ্তাহে দু’বার আখ সরবরাহ করার পর কৃষক টাকা পাবেন এমন সিদ্ধান্তে পাবনা সুগার মিলে আখ সরবরাহ করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু গত দেড় মাস ধরে আখের টাকা পাচ্ছেন না পাবনার ঈশ্বরদীর প্রায় চার হাজার আখচাষি।
মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাকার অভাবে ১৯ জানুয়ারির পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত কোনো আখচাষিকে তাদের মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে কৃষকের পাওনার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে প্রায় ১৫ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। চাষিরা প্রতিদিন বিলের জন্য ধরণা দিয়েও পাচ্ছেন না আখের মূল্য।
সরেজমিন ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও আখচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাভের আশায় আখচাষ করে বিক্রির টাকা সময়মতো না পেয়ে অর্থ সংকটে পড়েছেন চার হাজার আখচাষি। উপজেলার বাঘইল গ্রামের আখচাষি নজরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, আখ বিক্রি করে এক মাস ধরে বিল না পাওয়ার কারণে জমিতে অন্য ফসলের আবাদ করতে পারছি না, সার-কীটনাশক কিনতে না পেরে নতুন আখের জমি কিংবা অন্য ফসলের ক্ষেতে পরিচর্যা করাও সম্ভব হচ্ছে না। আবার পরিবারের মৌলিক চাহিদাও মেটাতে পারছি না। সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের আখচাষি খন্দকার তৌফিক আলম সোহেল বলেন, আখ বিক্রি করে টাকা না পেয়ে হাজার হাজার চাষি আখচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেকে আখচাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসল আবাদের কথাও ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, প্রতিদিন কৃষকরা তাদের পাওনা না পেয়ে মিলে এসে আমাদের কাছে অভিযোগ করছেন, আমরাও মিল ও করপোরেশনে দেনদরবার করছি বিল পরিশোধের জন্য, কিন্তু টাকা না থাকার কারণে তাদের আখের মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে না।
মিলের জিএম (অর্থ) ওয়াকার হাসান জানান, ইতোমধ্যে কৃষকের পাওনার পরিমাণ ১৫ কোটি ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪২ লাখ টাকা করে বাড়ছে দেনার পরিমাণ। কৃষকের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আমাদেরও খারাপ লাগছে।
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ সাইফুল্লাহ বলেন, কৃষকের টাকা পরিশোধের জন্য আমরা কয়েক কর্মকর্তা ঢাকায় এসে করপোরেশনে চেষ্টা চালাচ্ছি। মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিব পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে মিটিং করেছি। মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে। আশা করছি, টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ধারাবাহিকভাবে কৃষকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।
আনন্দবাজার/শাহী




