জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘অসৎ আচরণ’ এবং একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলে তাদের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরে আসার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত। বুধবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুরুতে এটি কোনো একক দলের জোট ছিল না; বরং আটটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা ছিল, যেখানে নেতৃত্বের প্রশ্নই ওঠার কথা নয়।
চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, সেই সমঝোতাকে কৌশলে একটি নির্দিষ্ট দলের একক নেতৃত্বাধীন জোটে পরিণত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দেশের কল্যাণে সব সিদ্ধান্ত সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে নেওয়ার কথা থাকলেও ইসলামী আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি আট দলের বাইরে নতুন রাজনৈতিক দল যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, জোটে ইসলামের আদর্শ ও দেশের স্বার্থের চেয়ে একটি দলের আধিপত্যই বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বড় প্রত্যাশা নিয়ে যে ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এই কারণেই টেকসই রাখা সম্ভব হয়নি। পরামর্শ ও সৌহার্দ্যের অভাব জোটের ভেতরের দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করীম জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে তাঁদের নতুন দল অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি কেবল জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অথচ পূর্বসমঝোতা অনুযায়ী, নতুন কোনো দল যুক্ত করতে হলে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আলোচনা অপরিহার্য ছিল। তাঁর ভাষায়, ওই জোটে না ছিল ইসলামের প্রকৃত প্রতিফলন, না ছিল পারস্পরিক ন্যূনতম সৌহার্দ্য—যার ফলে সেই অস্বস্তিকর অবস্থান থেকে সরে আসাকেই তারা শ্রেয় মনে করেছেন।
একই অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের আসন্ন নির্বাচনি ইশতেহারও প্রকাশ করে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই জোট ভাঙনের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন অর্থবছরের শেষভাগে দেশজুড়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি আর্থিক সুবিধা না পেলেও, নির্বাচনি পরিবেশ দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শেয়ারবাজারের ভবিষ্যতের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।




