বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখনো অব্যাহত থাকায় আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মঞ্চ–২৪। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে মঞ্চ–২৪ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, বর্তমান সরকারও তা নিরসনে ব্যর্থ। হাদি হত্যার বিচার নিয়ে সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এতে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফাহিম ফারুকী আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু হবে-এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের নিরাপত্তা দেবে, তারাই নিজেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের হত্যা করা হচ্ছ।
ঋণখেলাপীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ঋণখেলাপীরা চোর এবং তারা জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। কোনো ঋণখেলাপীকে সংসদে যেতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে বাঁশের লাঠি হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণাও দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ফাহিম ফারুকী বলেন, জাতীয় পার্টি ‘না ভোট’-এর পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু সরকার তা বন্ধ করতে পারছে না। তিনি অভিযোগ করেন, পল্টন থানা ছাত্রলীগের এক নেতা ভিডিও কলে মঞ্চ–২৪-এর সংগঠককে জবাই করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
আগামী ৩০ তারিখ শাহবাগ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণভোটের প্রচারণা শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। অস্ত্র লুটের ঘটনায় অস্ত্র উদ্ধার না করেই নির্বাচন আয়োজন করতে চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হত্যার বিচার করার দাবি তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চ–২৪-এর সংগঠক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, এখনো আহতদের পুনর্বাসন করা যায়নি, অথচ সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে মরিয়া। এ সরকার প্রথমেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। তিনি দ্বৈত নাগরিক ও চাঁদাবাজদের বর্জনের দাবি করেন। বিদেশি নাগরিকদের দিয়ে নির্বাচন আয়োজনকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া মেজর রাব্বি শাহিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি রক্তক্ষয়ী নির্বাচনে রূপ নিতে পারে। গুন্ডামি ও মাস্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো কোনো প্রস্তুতি সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বাস্তবায়নের কথাও শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।




