বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কার্ড দেখিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে ভোট চাইছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির লিফলেট বিতরণ সম্পর্কে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার শোকবার্তার নামে যে লিফলেট ঘরে ঘরে বিতরণ করেছে, তা মূলত সিমপ্যাথি নেওয়া ও ভোট চাওয়ার আরেকটি কৌশল। আমরা এটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করিনি। তবে গতকাল কড়াইল বস্তির একটি অনুষ্ঠানে তারেক রহমান একটি কার্ড দেখিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। কোনো দলীয় প্রধান এভাবে মানুষকে প্রলুব্ধ করে ভোট চাইতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, যে কার্ডের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই, সরকার গঠন হবে কিনা তারও নিশ্চয়তা নেই-সেই কার্ড দেখিয়ে ভোট চাওয়া অনৈতিক। এসব ঘটনার পরও আমরা এখনো অফিসিয়ালি অভিযোগ দেইনি।
সারজিস বলেন, বিএনপির স্থানীয়, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভোটার ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- ভয়ের রাজনীতি এই বাংলাদেশে আর চলবে না। দমন-পীড়নের রাজনীতির পরিণতি সবাই এক বছর চার মাস আগেই দেখেছে।
তিনি বলেন, আমরা ভোট চাইতে পারি, কিন্তু ‘ভোট না দিলে দেখে নেওয়া হবে’-এ ধরনের ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছি, প্রয়োজনে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হবে।
সারজিস বলেন, আমরা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পক্ষে। ভোটার, আমাদের কর্মী-সমর্থক বা ১০ দলীয় জোটের কাউকে ভয় দেখানো হলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে, নতুবা আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
এই বাংলাদেশ আগের বাংলাদেশ নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একটি দল দমন-পীড়ন করবে আর অন্যরা নীরব দর্শক হয়ে থাকবে এ সময় শেষ। আমরা এখন পর্যন্ত কাউকে হুমকি দেইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। এটা আমাদের রাজনৈতিক চরিত্রে নেই।




