ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৯৯৯-এ কল: আত্মহত্যা থেকে রক্ষা পেল পাকিস্তানি নাগরিক

চলন্ত গাড়ি থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করে আত্মহত্যার হুমকি দেন এক পাকিস্তানি নাগরিক ।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক মানসিক চাপে তিনি চরম সংকটে রয়েছেন এবং জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। তবে ৯৯৯-এর তাৎক্ষণিক সাড়া ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পান তিনি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও তুরাগ থানা-পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তরা এলাকা থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ওই ব্যক্তি নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি পেশায় একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার এবং বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। চার বছর আগে তিনি এক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।

কলারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা বেতন পান এবং এর বড় অংশ স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে তার স্ত্রী অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন এবং অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

একপর্যায়ে কলার কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান, তিনি গাড়ি চালানো অবস্থায় ফোন করছেন ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। এ সময় ৯৯৯ থেকে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়, গাড়ি থামানোর অনুরোধ জানানো হয় এবং আইনি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, জরুরি কলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল বায়েজিদ। পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সঙ্গে তদারকি ও সমন্বয় করেন ডিসপাচার এসআই সাব্বির আহমেদ নিক্সন।

খবর পেয়ে তুরাগ থানার একটি পুলিশ দল দ্রুত কলারের বাসায় পৌঁছায়। সেখানে তার সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব এবং শাশুড়িও উপস্থিত হন। এ সময় কলারের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিয়মিত গভীর রাতে বাসায় ফেরেন। পরে সবার উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির বিষয়ে আলোচনা করে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওই সময় স্বামী বা স্ত্রী কেউই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে রাজি হননি। ভবিষ্যতে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে

সংবাদটি শেয়ার করুন