বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বনির্ভর কমিটির সহ-সম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি বলেছেন, ‘বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবন্ধী ভাতা চালু করেছে। পরবর্তীতে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার এসে সেই ভাতা লুটেপুটে খাচ্ছে। আমরা কথা দিচ্ছি, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে প্রতিবন্ধীদের অধিকারে কেউ ভাগ বসাতে পারবে না।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ডিজাবিলিটি রাইটস বাংলাদেশ (ডিয়ারবি) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “নির্বাচনী ইশতেহার ও গণভোট: প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রসঙ্গ” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদের প্রেরণার উৎস। যারা জন্মগত প্রতিবন্ধী কিংবা যারা জুলাইয়ে প্রতিবন্ধী হয়েছে, তাদের সবার প্রতি আমার অশেষ শ্রদ্ধা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী যেমন যেকোনো মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণ করতে পারে, তেমনি প্রতিবন্ধীদের জন্যও প্রতিটি সেক্টরে সুযোগ থাকতে হবে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছাড়া বিসিএস পরিক্ষা দেওয়ার অধিকার সবার আছে। আপনারা আপনাদের অধিকারের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবেন। বিএনপি আপনাদের পাশে থাকবে।
সেমিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, মর্যাদার দিক থেকে আমরা সবাই সমান। সমাজের কিছু লোককে মুলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে সুষ্ঠু সমাজ হয়না। একটি সুন্দর মানবিক সমাজ বিনির্মানে সকলকে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা আমাদের ইশতেহারে আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে যা করা সম্ভব সেসব বিষয়ই রাখবো। আমরা ঘরে ঘরে কার্ড কিংবা ১০ টাকায় চালের মতো কোন ফাঁকা বুলি দিবো না।
ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও ডিজাবিলিটি রাইটস বাংলাদেশের অ্যাডভাইজার ড. সাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। এই বিপুল পরিমাণ প্রতিবন্ধীদের যদি আমরা কোন কাজে নিযুক্ত করতে না পারি, তাহলে তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য কোন নীতিমালা প্রণয়নে সেখানে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। আরেকটা সমস্যা হলো এসব নীতিমালা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়না। এর সমাধান হিসেবে বাস্তবায়নের কাজে প্রতিবন্ধীদের যুক্ত করতে হবে। কেননা, তাদের সমস্যা সমাধানে তারাই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবে।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন তার বক্তব্যে বলেন, আমি এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সমালোচনা করবো। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো পেশিশক্তির রাজনীতি থেকে বের হয়ে অধিকারবঞ্চিত মানুষদের জন্য কাজ করা। রাজনৈতিক দলগুলো যদি পেশিশক্তির রাজনীতি ত্যাগ করতে না পারে তাহলে আরও ১০-১৫ বছর পরেও আমাদের এভাবে সেমিনার করে বেড়াতে হবে।
তিনি এনসিপির সমালোচনা করে বলেন, এনসিপি তার ২৪ দফায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রান্সফারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর সভাপতি মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিংবা শারিরীক প্রতিবন্ধী তিনি ভোটকেন্দ্রে যাবেন কিভাবে সেটার ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনকে করতে হবে। নির্বাচনের পরে যে দলই সরকার গঠন করবে, তাদের প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে দৃষ্টিপাত করার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসএবিলিটি ইনক্লুশন জেন্ডার জাস্টিস প্রোগ্রামের প্রধান জাহিদুল কবির বলেন, ‘প্রতিবন্ধী মানুষদের ব্যাপারে আলোচনা করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা তাদের কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি। অপ্রতুল বরাদ্দ, তাদের জন্য আমরা শুধু ভাতার কথা বলি। কিন্তু তাদের জন্য প্রতিটি মন্ত্রনালয়ে বরাদ্দ থাকা দরকার।’
প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ইশতেহার আপনারা (রাজনৈতিক দল) দয়া করে এসি রুমে বসে করবেন না। আপনারা প্রতিবন্ধীদের সাথে কথা বলুন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইশতেহার দিন। এছাড়াও, প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করতে স্পেশাল বিসিএস নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সভাপতির বক্তব্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম উপস্থিত প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের প্রতিবন্ধী বলতে চাই না। আপনাদের বলতে চাই অদম্য মেধাবী। গত ৫৪ বছরে অসংখ্য রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে, অনেক নেতা তৈরী হয়েছে। কিন্তু কেউই প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে পারেনি।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিবন্ধীদের ন্যায্য অধিকার চাই৷ এই অধিকার নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলগুলোর কর্তব্য। ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসবে, প্রতিবন্ধীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম কর্তব্য। প্রতিবন্ধীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবিতে ডাকসু আপনাদের পাশে থাকবে।
সেমিনারে ডিজাবিলিটি রাইটস বাংলাদেশের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সম্পাদক মো. রাইসুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত কুমারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ এছাড়া, ঢাবি শাখার কমিটিতে। সভাপতি হিসেবে নাইমুল ইসলাম নাইম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জান্নাতুল সেতুর নাম ঘোষণা করা হয়।




