আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন এবং এটি অবশ্যই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হতে হবে।
সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপি নেতারা বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ তুলে ধরেন। তারা জানান, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। এ নির্বাচনে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি দেশকে নতুন পথে নিয়ে যাওয়ার নির্বাচন, তাই সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করতেই হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে জানাতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে, যাতে কেউ আইন লঙ্ঘন করতে না পারে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা আইনসম্মত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণকে বোঝানো হচ্ছে “হ্যাঁ” ভোট দিলে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।




