ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রেমিট্যান্সে নতুন গতি, ১৮ দিনে এল দুই বিলিয়ন ডলার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান ঘনিয়ে আসায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক গতি দেখা দিয়েছে। সময় যত এগোচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান এই খাত আরও চাঙা হচ্ছে। চলতি জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে এসেছে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়, যা অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে প্রবাসীরা পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকেন। এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল গত বছরের মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার; তখন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা প্রায় দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সমান। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি অর্থবছরে জুলাইয়ে ২৪৭.৭৮ কোটি, আগস্টে ২৪২.১৯ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৬৮.৫৮ কোটি, অক্টোবরে ২৫৬.৩৫ কোটি, নভেম্বরে ২৮৮.৯৫ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২.৬৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় হুন্ডি ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.৬২ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার।

সংবাদটি শেয়ার করুন