ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ভোট দিতে কেউ বাধা দিলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে’

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। নির্বাচনে যার যাকে ইচ্ছা সে তাকে ভোট দিতে পারবে। কেউ কাউকে ভোট দিতে বাধা দিবে না। কিন্তু যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে আর আমরা হাসিনা হতে চাই না।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ‘গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘর, গুম ও গায়েবি মামলার মতো যে অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা পরিবর্তনের জন্যই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দেয়নি। কখনো রাতের ভোট, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীহীন একক নির্বাচন, আবার কখনো ডামি ও ভুয়া ভোটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, দেশের মানুষকে দীর্ঘ ১৫ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে নিয়েছে। জনগণের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে এবং দেশকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ফলে দেশে পুনরায় ভোট দেওয়ার সুযোগ ফিরে পেয়েছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

এবারের নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ড. আসিফ বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, বড় ধরনের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করলেও জনগণের মতামত নেওয়া এখনো বাকি আছে। জনগণের মতামত জানার জন্যই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটি ভোটের সুযোগ থাকবে। যারা সংস্কারের পক্ষে, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবে আর আর যারা শেখ হাসিনার আমলের মতো বাংলাদেশ পরিচালিত হোক চান, তারা ‘না’ ভোট দেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন