ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীবরদীতে মাদক বিক্রি হচ্ছে ‘দিনের আলোতে’

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার শ্রীবরদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিয়া পাড়া ও মুন্সিপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, দিনের আলোতেই গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের কেনাবেচা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং এলাকায় সামাজিক অবক্ষয়ের ভয় ক্রমেই বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্র দীর্ঘদিন ধরে এখানে সক্রিয়ভাবে মাদক বিক্রি ও সেবন করছে। তারা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রকাশ্যেই ব্যবসা চালায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে বা লজ্জায় লুকিয়ে থাকার প্রয়োজন মনে করে না। এর ফলে চোর, জুয়াড়ি ও মাদক কারবারিরাই এলাকায় সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। অপরদিকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাওয়া সাধারণ মানুষ নীরবে এই অবস্থা সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারিরা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা দিনের বেলায়ও নীরবে মাদক সেবন ও বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় শৃঙ্খলা এবং সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হচ্ছে। মানুষ এখন আর স্বাভাবিকভাবে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে; বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ বোধ করছে। অনেকে জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায় জড়িতদের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে এবং যুবসমাজ অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে আকৃষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি কাজ করছি। যারা মাদক বিক্রেতা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছেন।”
মাদক বিক্রেতাদের সাথে প্রশাসনের সখ্যতা থাকার অভিযোগ উত্থাপিত হলে তিনি বলেন, “এটা একদমই সত্য নয়। প্রশাসন মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে।”

ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম আরও জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য-সংগ্রহ ও অভিযান অব্যাহত আছে এবং যারা মাদক ব্যবসায় জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি স্থানীয়দেরও অনুরোধ করেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে।

অপরদিকে সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান-মামলা দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, মাদকবিরোধী কাজকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় জনগণ, স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

তারা মনে করেন, নিয়মিত সচেতনতা কর্মসূচি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী প্রচারণা এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা করলে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও পরিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করতে হবে, যাতে তরুণরা মাদকাসক্তির পথে না যায়।

এলাকাবাসী আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলে খামারিয়া পাড়া ও মুন্সিপাড়া মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।

অন্যথায় মাদক সন্ত্রাস পুরো এলাকায় সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি করতে পারে—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপজ্জনক সংকেত। স্থানীয়রা বলছেন, এখনই যদি কঠোরভাবে অভিযান,পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি ও তথ্যভিত্তিক নজরদারি না চালানো হয়, তাহলে মাদককারবারিরা আরও শক্তিশালী হয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন