ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সব বাধা মোকাবিলা করতে সরকার প্রস্তুত: রিজওয়ানা

আসন্ন গণভোটকে ঘিরে যত ধরনের বাধাই আসুক না কেন, সব বাধা মোকাবিলা করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, এখন থেকেই জনগণকে চিন্তা-ভাবনা শুরু করতে হবে কাকে ভোট দেবেন এবং কেন দেবেন। সচেতন সিদ্ধান্তই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথ সুগম করতে পারে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে একই ব্যবস্থা, একই আইন-কানুন এবং একই মানুষ দিয়ে আর এগোনো সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, সেই কাঠামোর মধ্যেই যদি আমরা ঘুরপাক খাই, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে না। রাজনৈতিক দল, সরকার, ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের মানুষ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জমে ওঠা জনআকাঙ্ক্ষা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা ঘটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বর্বরতা ও নিপীড়নের ঘটনায় ছাত্র-জনতা এক অভূতপূর্ব ঐক্যে রাজপথে নেমে আসে। সেই আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নেয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার দাবিতে গণ-অভ্যুত্থানে।

এই প্রেক্ষাপটে তিনটি বড় এজেন্ডা সামনে রেখে কাজ করা হচ্ছে- সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার প্রশ্নে একটি ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে না রেখে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও এর মধ্যে ৬টি কমিশন সরাসরি ভোট ও নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয় বহুল আলোচিত জুলাই সনদ। এই জুলাই সনদে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস দেশের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই সনদ নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়েছে। মতৈক্য ও ভিন্নমত দুটিই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গণভোটের প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই সনদে থাকা বড় বড় সুপারিশগুলোকে পৃথক করে, সহজ ও স্পষ্টভাবে গণভোটের প্রশ্ন আকারে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই-রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে সরাসরি জনগণের মতামত নেওয়া।

উদ্যোক্তারা বলছেন, এই গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়, তাহলে সেটিই হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত সাফল্য ও বৈধতা। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে ছাত্র-জনতার রক্ত, ত্যাগ ও আন্দোলন বৃথা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এই ধরনের গণভোট রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এটি শুধু একটি ভোট নয়; এটি একটি প্রজন্মের প্রত্যাশা, একটি আন্দোলনের ফসল এবং একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সিদ্ধান্ত জনগণের জুলাইয়ের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হবে কি না, তার রায় আসবে ব্যালট বাক্সেই।

সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটে উদ্বুদ্ধ করলেও এটি কোনো চাপ প্রয়োগ নয় তিনি আরও স্পষ্ট করেন, কারো ভিন্নমত থাকলে সেটি প্রকাশ করার অধিকার সবার আছে। তবে আমরা কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট চাচ্ছি, তার যুক্তি জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন